একুশে বার্তা ডেক্স : অপহরণের ১১ ঘন্টা পর অবশেষে আওয়ামীরীগ নেতা পারভেজকে পাওয়া গেল ৩০০ ফুটের কানচন ব্রীজের কাছে। গতরাতে তাকে পুলিশ উদ্ধার করে পবিবারের জিম্মায় দেয়। অসুসথ থাকায় পুলিশ গতরাতে পারভেজকে জিঞ্ঘাসাবাদ করেনি। আজ তাকে পুলিশি হেফাজতে জিঞ্ঘাসাবাদ করা হবে।
তার পরিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অপহরণকারীরা তার চোখ বেঁধে গাড়িতে করে বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে রাতে কাঞ্চন ব্রিজের কাছে ৩০০ ফুট সড়কে ফেলে রেখে যায়। খবর পেয়ে পুলিশের সহযোগিতায় তাকে বাসায় নিয়ে আসেন তারা।
তবে কুমিল্লার তিতাস উপজেলা পরিষদের সাবেক এই চেয়ারম্যানকে কারা কেন বাসার সামনে থেকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল- সে প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি।
পারভেজের ভাগ্নে আবরার সামশাদ জাকি শুক্রবার রাত ১টার পর তার মামা পারভেজকে পাবার সত্যতা স্বীকার করেন।
কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য পারভেজ হোসেন ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিতাস উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। দুই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে লালমাটিয়া সি ব্লকের ৩০ নম্বর বাড়িতে তিনি থাকতেন।
শুক্রবার দুপুরে স্থানীয় একটি মসজিদে জুমার নামাজ পড়ে বাসার ফেরার সময় পারভেজকে জোর করে একটি কালো রঙের গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় কয়েকজন।
পরিবারের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলের আশপাশের বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্তে নামে।
ভিডিওতে দেখা যায়, দুজন লোক টেনেহিঁচড়ে পারভেজকে তার বাসার সামনে থেকে নিয়ে যাচ্ছে। একটি কালো রঙের গাড়িতে তুলে পারভেজকে নিয়ে চলে যান তারা।
শুক্রবার রাত ১০টার দিকে পারভেজের ফোন পান তার স্ত্রী তাহমিনা আফরোজ। পারভেজ তাকে জানান, তিনি আছেন ৩০০ ফুট এলাকায়, পরিবারের সদস্যরা যেন তাকে নিয়ে যায়।
পারভেজের পরিবারের সদস্যরা এরপর পুলিশে খবর দেয়। পুলিশের সহযোগিতায় রাত সাড়ে ১২টার দিকে কাঞ্চন ব্রিজের কাছ থেকে পারভেজকে নিয়ে পরিবারের সদস্যরা লালমাটিয়ায় ফেরেন।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার আশায় কাজ করছিলেন পারভেজ।
তিতাসের বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল শিকদারের সঙ্গে বিরোধের কারণে বছরখানেক ধরে পারভেজ এলাকায় যাওয়া কমিয়ে দেয়।
