বসবাসের অযোগ্যরাজধানী শহর ঢাকা

একুশে বার্তা প্রতিবেদন : প্রতি বছরের মতো এবারও বাসযোগ্য শহরের তালিকার তলানিতে রয়েছে ঢাকা। যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের পরই এর অবস্থান। ইকোনমিক ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) গ্লোবাল লিভেবল ইনডেক্স বা বিশ্বের বাসযোগ্য শহরগুলোর তালিকায় এ বছর বসবাসের জন্য সবচেয়ে অযোগ্য শহর সিরিয়ার দামেস্ক, তারপরই দ্বিতীয় স্থানে আছে আমাদের রাজধানী ঢাকা। কেবল এ বছরই নয়, ২০১২ সাল থেকে নিয়মিতই ঢাকা বসবাস অযোগ্য শহরের তালিকার শেষ দশের মধ্যে স্থান পেয়ে আসছে।

উল্লেখ্য, ২০১১ সাল থেকে সিরিয়ায় দেশি-বিদেশি বহুমুখী যুদ্ধ চলছে। বিমান হামলা, বোমা বিস্ফোরণ, এমনকি রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহারও হচ্ছে সেখানে। ফলে দামেস্কের বসবাস অযোগ্য শহরের তালিকায় এক নম্বরে থাকা অস্বাভাবিক নয়; কিন্তু উন্নয়নশীল দেশের রাজধানী ঢাকা বছরের পর বছর বসবাস অযোগ্য শহরের তালিকার তলানিতে থাকে কীভাবে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। যদি সিরিয়ায় যুদ্ধ না থাকত তবে ঢাকা যে বসবাস অযোগ্য নগরীর তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করত, তা বলাই বাহুল্য। জীবনযাত্রার মান বাড়ানোর লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছি- এমন বক্তব্য প্রায়ই শোনা যায় শীর্ষকর্তাদের মুখে, তারপরও কেন ঢাকা বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত হচ্ছে না, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

পাঁচটি বিভাগের প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে বাসযোগ্য নগরীর ক্রম নির্ধারণ করে ইআইইউ। এগুলো হল- স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা এবং অবকাঠামো। ১৪০টি শহরের মধ্যে এসব বিভাগে সর্বোচ্চ ৯৯ দশমিক ১ পয়েন্ট পেয়ে সবচেয়ে বাসযোগ্য শহরের তালিকায় এক নম্বরে আছে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা। অন্যদিকে ৩০ দশমিক ৭ পয়েন্ট নিয়ে ১৪০তম দামেস্ক এবং ৩৮ পয়েন্ট নিয়ে ১৩৯তম ঢাকা। বিস্ময়কর তথ্যই বটে, যুদ্ধবিধ্বস্ত দামেস্ক আর আমাদের ঢাকা স্বাস্থ্যসেবা খাতে সমান অবস্থানে রয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ ভারতসহ বিভিন্ন দেশে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার পরও এ খাতটিতে মনোযোগ নেই! বাকি চারটি খাতেও দামেস্কের সঙ্গে ঢাকার তফাত সামান্য।

অবকাঠামো (যার অন্যতম রোড-পরিবহনও), শিক্ষা, চিকিৎসা, সংস্কৃতি ও স্থিতিশীলতার মতো বিষয়ে নিজেদের অবস্থান উন্নত করা একটি চলমান প্রক্রিয়া। এগুলোয় আমাদের বিভিন্ন প্রকল্প চলছে, আরও নেয়া হচ্ছে। দায়িত্বশীল মহল যদি ইতিবাচক হয় এবং জনসচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেয় তবে আমাদের রাজধানী শহরটিকে আরও বেশি বাসযোগ্য করে তোলা কঠিন কিছু নয়। বিদেশি জরিপে খারাপ ফল এসেছে বলে নয়, নিজেদের ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে ঢাকাকে মনোরম নগরী হিসেবে গড়ার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা নেয়া হোক অবিলম্বে।