স্টাফ রিপোর্টার : বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সে গ্রাউন্ড সার্ভিসে পি-৩৬৪৮৮ এসিসটেন্ট ম্যানেজার শাহজাহান, তার স্ত্রী শামীমা এবং জুনিয়র গ্রাউন্ড সার্ভিস অফিসার সাজ্জাদ হোসেনসহ বিমানের কতিপয় কর্মকর্তার সমন্ধয়ে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেডের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি মানব পাচার , সোনা পাচার, নিয়োগ বাণিজ্য রোস্টার বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠেছে। শুধু তাই নয়- রোম, থাই ও এমিরেটস এয়ার লাইন্সে অতিরিক্ত ল্যাগেজ বুকিং দেয়ার সময় শাহজাহান, তার স্ত্রী শামীমা হাতেনাতে ধরা পড়ে এবং এদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কপি ব্যক্তিগত ফাইলে সংযুক্ত করা হয়। এ সংক্রান্ত অভিযোগের কপি প্রশাসন বিভাগের হেড কেরানি/ প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন, পি-৩৭১৬৫কে ম্যানেজ করে এদের ব্যক্তিগত ফাইল থেকে তা গায়েব করে পদোন্নতির অভিযোগও পাওয়া গেছে। ফাইল থেকে ল্যাগেজ চুরির কপি গায়েব করে দিয়ে পদোন্নতি বাগিয়ে নিয়ে এখন এসিসটেন্ট ম্যানেজার, ম্যানেজার হবার স্বপ্ন দেখছে, তদবির করছে।

অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কাড়ি কাড়ি টাকা কামিয়ে শাহজাহান রাজধানির উত্তরায় একাধিক ফ্লাট বাড়ি গড়ে তুলেছে, দামি গাড়ি হাকিয়ে বেড়াচ্ছে। উত্তরা ও এভিয়েশন ক্লাবে মদ জুয়া নিয়ন্ত্রণ করছে বিমানের এ কর্মকর্তা। সিন্ডিকেডের উপার্জিত অর্থ উত্তরার ৫ নং সেক্টরের বড়ইতলায় ভাগাভাগি হয়ে থাকে বলেও জানা যায়।
শাহজাহানের বাড়ি উত্তরবংগ হবার সুবাধে উত্তরবংগের বিভিন্ন লোককে চাকরি দেবার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলেও শোনা যায়।

সিন্ডিকেড সর্দার শাহজাহান তার বউয়ের ছোট বোন অর্থাৎ শ্যালিকাকে বিমানের কেবিন ক্রুতে কোটা জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরি দেয়। পরবর্তীতে তদন্তে তা ধরা পড়লে তার শ্যালিকা বিদেশে পাড়ি জমায়।
বিমানের গ্রাউন্ড সার্ভিসের এসিসটেন্ট ম্যানেজার শাহজাহান ২০০০সালে আইএনএস-এ দায়িত্ব পালনের সময় একচেটিয়া মানব পাচারে জড়িয়ে পড়ে। তাছাড়া বিভিন্ন কেবিন ক্রু, জিএসই অপারেটর এবং মাজেদসহ সোনা চোরাচালানে আধিপত্য বিস্তার করে। ভিআইপি প্রটোকলের নামে ভিআইপি ল্যাগেজ সোনা ঢুকিয়ে পাচার করার কথাও শোনা যায়। বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা তার টিকিটিও স্পর্শ করতে পারেনি। এই শাহজাহান উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে নিম্ন পদে কর্মরতদের অবৈধ কাজে বাধ্য করায়। তার কথায় কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে বদলি, চাকরিচ্যুতিসহ নানান হয়রানির ভয়ভীতি দেখায়।
বিমান প্রশাসনকে কব্জা করে শাহজাহান- সাজ্জাদুল- শামীমা সিন্ডিকেড বিমানে রাজরাজত্ব করলেও রহস্যজনক কারণে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয় না। সংগঠন করার কারণে বিমানের এমডিও এদের সমীহ করে চলে। কিছু হলেই এই সিন্ডিকেড সদস্যরা আন্দোলনের হুমকি দেয়।
