একুশে বার্তা প্রতিবেদন : রাজধানীর বাড্ডার বেরাইদ এলাকায় সংঘর্ষের জেরে মামলা করেছেন ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন। মঙ্গলবার তিনি বাদি হয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ওমর ফারুকসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বলে জানিয়েছেন বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী ওয়াজেদ আলী।
তিনি বলেন, বেরাইদের সংঘর্ষের ঘটনায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে থানায়। তবে এ মুহূর্তে আমি বাইরে থাকায় বিস্তারিত জানানো যাচ্ছে না।
উল্লেখ্য, গত রোববার বিকালে বাড্ডার বেরাইদের ক্রাউন সিমেন্ট-এর রেডিমিক্স সাইটের সামনে স্থানীয় এমপি একেএম রহমত উল্লাহর সমর্থক ফারুক গ্রুপ এবং বেরাইদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
এতে স্থানীয় চেয়ারম্যানের চাচাতো ভাই আওয়ামী লীগের কর্মী মো. কামরুজ্জামান নিহত হন। আহত হন আরো দশজনের মতো।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এমপি রহমত উল্লাহ’র ভাগ্নে ফারুক আহমেদের নেতৃত্বে ৫০/৬০ জন বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে জাহাঙ্গীরের সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় জাহাঙ্গীরের সমর্থকরা প্রতিরোধ করতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। নিহত কামরুজ্জামান ক্রাউন সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে ঠিকাদারের কাজ করেন। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি ফ্যাক্টরির কাছে কয়েকজনকে নিয়ে কাজ করছিলেন। এ সময় এমপি’র ভাগ্নে ফারুকের নেতৃত্বে তাদের ওপর গুলি চালানো হয়। এ সময় জাহাঙ্গীরের সমর্থকরা প্রতিহত করতে এগিয়ে এলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
স্থানীয়রা জানান, বেরাইদে আওয়ামী লীগের দুটি গ্রুপ রয়েছে। একটি গ্রুপের নেতৃত্বে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি এমপি রহমত উল্লাহর ভাগ্নে ফারুক আহমেদ। অন্য পক্ষের নেতৃত্বে বাড্ডা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বেরাইদ ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপ-নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট করা এবং বেরাইদ ইউনিয়ন এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এমপি রহমত উল্লাহর ভাগ্নে ফারুক আহমেদ ও জাহাঙ্গীর আলমের গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছে।
