শাহজালালে ম্যানপাওয়ার ডেক্স কি মানব পাচারে জড়িত !

আবুল বাশার : হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের যারা মানবের ঢাল হিসেবে কাজ করবে সেই তারাই –ম্যানপাওয়ার ডেক্স কতিপয় কর্মকর্তা –কর্মচারি নাকি মানব পাচারেরর সহযোগি। গোয়েন্দা প্রতিবেদনের পর এই ডেক্সে কর্মরত ঢালাইভাবে মানচ পাচার অভিযোগে কর্তৃপক্ষ গণ বদলি করলেও তা থেমে নেই। এই ডেক্সে কর্মরত চন্ঞল, মাইদুল, মাসুদ,কাদের,তাজুল ইসলাম তাজু, আতাউর রহমান,হেলাল বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যেসহ বিভিন্ন দেশে মানব পাচার সহযোগি বলে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছে এবং তা খতিয়ে দেখছে। সহকারি পরিচালক এসব অপকর্মরোধে সাড়াশি অভিযান চালালেও তার একার পক্ষে এ সব সামাল দেয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে বিমানবন্দরের সূত্রে জানা গেছে। এরা ইমিগ্রেশন কাউন্টারের ভিতরে ম্যানপাওয়ার ডেক্সের ভিতর কন্ট্রাক্ট করে আদমপ্রতি ৮-১০ হাজার করে টাকা করে হাতিয়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে পাচারে সহযোগিতা করছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। এই কর্মকান্ডে কারণে বিদেশে নীরিহ মানুষ জেল জরিমানা খেটে দেশে ফেরত আসছে। এতে দেশের ভাবমূতি ক্ষুন্ন হচ্ছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
এদিকে মানবপাচার, মুদ্রা পাচার, সোনা পাচারসহ ফৌজদারী মামলায় অভিযুক্তদের পুনরায় চাকরিতে পুন:নিয়োগসহ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদন আমলে নিচ্ছে না বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন অথরীটি (সিএএবি)। এ ক্ষেত্রে যুক্ত হয়েছে, উচ্চ আদালতের আদেশ। উচ্চ আদালত শাহজালালে ভিআইপিদের সাথে যারা প্রবেশ করেন তাদের ব্যাপারে সতর্ক হতে বললেও তা অমান্য করে চলেছে সিএএবি। ফলে ভিআইপির সাথে করা কারা প্রবেশ করছে তা অন্ধকারেই থেকে যাচ্ছে। আর এই সুযোগেই যুদ্ধাপরাধীর দায়ে আজীবন দন্ডপ্রাপ্ত মরহুম গোলাম আযমের পরিবারও শাহজালাল বিমানবন্দরে ভিআইপি লাইন্ঞ ব্যবহারজনিত গোয়েন্দা প্রতিবেদন আমলে নেয়া হয়নি। বর্তমানেও ভিআইপি বরাদ্দ ছাড়াই অবাধে শিকদার গ্রুপের কর্নধাররা ‘আর এন্ড আর’ এভিয়েশনের নামে ভিআইপি লাউন্ঞ ব্যবহার করছে- যা শাহজালালের ভিডিও ফুটেজ খুজলেই পাওয়া যাবে বলে অনেকে মন্তব্য করেন।
এ দিকে শাহজালাল বিমানবন্দরে প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা (সিএসও) পদটি বিলুপ্ত করে পরিচালক নিরাপত্তা পদে জনবল পোস্টিং দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। আর সেই বিতর্কিত সিএসও রাশিদা সুলতানাকে উপপরিচালক চলতি দায়িত্ব দিয়ে ট্রেনিংয়ের দায়িত্ব দিয়ে শাহজালালেই রাখা হয়েছে।
খোজখবর নিয়ে জানা গেছে, সাবেক প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা, তার বিরুদ্ধে সোনা পাচারে সহায়তাসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিকবার গোয়েন্দা প্রতিবেদন হয়েছে। কিন্ত কোনটাই আমলে নেয়নি সিএিএবি প্রশাসন। অতি সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তাকে “ মানসিক ভারসাম্য’’ আখ্যায়িত করে বিমানবন্দর থেকে কম গুরুত্বপূর্ন স্থানে পোষ্টিংয়ের কথা বলা হলেও তা এখন কার্যকর করেনি সিএএবি কর্তৃৃপক্ষ। একটি কোম্পানির একজন প্রটোকল কর্মকর্তা যার নাম রবিউল তার প্রাইভেট কার শাহজালালের ভিআইপিতে প্রায় সময়ই পড়ে থাকে এবং গাড়িটি নাকি সিএসও’র জন্যই রাখা হয়ে থাকে। ওই গাড়ির ওপর নজরদারি করলেই কেচো খুড়তে সাপ বের হয়ে আসবে।
সূত্র জানায়, ইতিপূর্বে সিএএবির ২৯ নিরাপত্তা রক্ষী যারা দীর্ঘদিন শাহজালালের কর্মরত তাদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা প্রতিবেদন এখনও কার্যকর করা হয়নি। তাদের আব্দুন নাসের নামের একজন সহকারি পরিচালক ডেকে জিঙ্ঘাসাবাদ করেন। কিন্ত এরা প্রায় সবাই এখনও শাহজালালে বহাল তবিয়তে।
সূত্র জানায়, বিভিন্ন সময়ে গণ মাধ্যমে ‘শাহজালালে শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারি গোয়েন্দা নজরদারিতে’ ফলাও করে প্রচার করলেও কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি সিএএবি প্রশাসন। বার বার সোনা পাচার করতে গিয়ে ধরা খেয়ে জেল খাটলেও নিরাপত্তা কর্মী তালেবুর রহমান তালেবকে চাকরিচ্যুত্য করা হয়নি। এবার আবার তালেব সিএসও রাশিদার কথামতো সোনা পাচার করতে গিয়ে গোয়েন্দাদের হাতে ধরা খাবার পর তাকে বরখাস্ত করেছে সিএএবি প্রশাসন। কিন্ত এখনও তালেবের মতো আরো অনেকে মানব পাচারসহ বিভিন্ন অনৈতিক কাজে জড়িত। এর মধ্যে সোনা পাচার করতে গিয়ে (পরিচালকের পিয়ন মতি,প্রায় ২৫ বছর যাবত মতি শাহজালালে কর্মরত, তার আপন ছোট ভাই) রেজাউল করিম সোনাসহ হাতেনাতে ধরা পড়ে জেল খাটছে। কিন্ত রেজাউল করিমের সহযোগিরা বহাল। নিরাপত্তা সুপার নজরুল, নিরাপত্তারক্ষী, মানিক,মিজান , বাদল,বারেক শিকদার, কবীর ( কাওলার), কবীর ( বাড্ডা), নিরাপত্তা অপারেটর আমিনুল, কালাম , ফরিদ, হাবীব, হান্নান, মতিন, রাকিব, সুমন, জাহাংগীর, খলিল, রবিউল, গনি, সাইফুল, ঈদিস মোল্লা, আনসার উল্লাহ জসিম (বর্তমানে সাসপেন্ড) রহিমসহ প্রায় অর্ধশত নিরাপত্তাকর্মী মানব পাচারে জড়িত বলে গোয়েন্দা সংস্থা খতিয়ে দেখছে।
মানব পাচার প্রসংগে শাহজালালের সাবেক পরিচালক বলেন, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে মানব পাচারে জড়িত থাকার কথা জানতে পেরে কয়েকটি কি পয়েন্ট থেকে সিএএবির নিজস্ব নিরাপত্তা রক্ষীদের ডিউটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি শাহজালালের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য।