শাহজালালে সক্রিয় চোরাচালানি

একুশে বার্তা প্রতিবেদন : হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিতরে-বাইরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে লাগেজচোরচক্র এবং স্বর্ণচোরাচালানীরা। ভদ্র ও স্মার্ট সেজে লাগেজচোর চক্র নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের চোখ ফাঁকি দিয়ে কখনো যাত্রী, কখনো যাত্রীর আত্মীয় কিংবা বেড়াতে এসেছে বলে পর্যায়ক্রমে অবস্থান করছে। এদের বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে বিমানবন্দর এলাকায়। অবশ্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ছেন লাগেজচোর সদস্যরা।
ডিউটিরত অবস্থায় বিমানবন্দর এলাকায় বিভিন্ন সংস্থা ও শাখার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার ও হাত ব্যাগ বহন করা নিষিদ্ধকরা হয়েছে। এ বিষয়ে বিমানবন্দরের প্রধান নিরাপত্তা বিভাগ থেকে বিভিন্ন সংস্থাকে চিঠি দেয়া হয়েছে। ভদ্রবেশী স্মার্ট লাগেজচোরদের দেখতে সুদর্শন, পরিপাটি পোশাক পরা, কেউ দেখলেই মনে করবেন কোন প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বড় ব্যবসায়ী। কেউ দেখলে ভাবতে পারবেন না তারা লাগেজচোর। বাংলায় শুদ্ধ কথা বলছে, তারা মাঝে মধ্যে ইংরেজী ভাষায় কথা বলছে।
একটি সূত্র জানায়, হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মোবাইল ফোন ও হাতব্যাগ, নিরাপত্তায় নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট কেউ কেউ অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে এমন অভিযোগও উঠেছে। লাগেজ চুরি থেকে শুরু করে স্বর্ণ চোরাচালানসহ নানা অপরাধে ব্যবহার হচ্ছে মোবাইল ফোন ও হাতব্যাগ। বিমানবন্দরে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন শাখাতে বহুবার অফিস আদেশ-নির্দেশ দেয়ার পরও নিরাপত্তায় নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ডিউটিরত অবস্থায় মোবাইল ফোন ও হাতব্যাগ ব্যবহার বন্ধ হচ্ছে না। অনেকেই এ নির্দেশ  মানছে না।

গত মঙ্গলবার সরেজমিন পরিদর্শনকালে অনেকের হাতে ব্যাগও দেখা গেছে। প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তার চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, বিমানবন্দর অভ্যন্তরে ডিউটিরত বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার ও হাতব্যাগ বহন নিষিদ্ধ করে বেশ কয়েক আদেশ জারি করা হয়েছে। লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, অফিস আদেশ অমান্য করে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরের মোবাইল ফোন ব্যবহার ও হাতব্যাগ বহন করা হচ্ছে; যা নিরাপত্তার পরিপন্থী। এ আদেশ প্রাপ্তির পর থেকে কোন কর্মচারী মোবাইল ফোন ব্যবহার, হাতব্যাগ বহন করতে পারবেন না। এটা সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তাগণ নিশ্চিত করবেন, কাউকে মোবাইল ফোন ও হাতব্যাগ বহন করতে দেখা গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিরাপত্তায় নিয়োজিত একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করা শর্তে  জানান, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অপরাধীদের সাথে যোগাযোগ করছে কোন কোন কর্মচারী। এটি বিমানবন্দর নিরাপত্তায় চরম হুমকি। একারণে নিষিদ্ধ করা হয়েছে মোবাইল ফোন ব্যবহার। নেয়া হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা জানান, বিমান বন্দরের ভিতরের অবস্থা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসলেও বাইরের নিরাপত্তা হুমকিতে আছে। ছিনতাইকারী, লাগেজচোরচক্র, রেন্ট-এ কার, টেক্সীক্যাবের দৌরাত্ম্যে শুধু যাত্রী সাধারণ নয় দর্শনার্থীরাও চরম বিপাকে পড়েছেন। নানা হয়রানির মাঝেও সর্বস্ব হারিছেন অসংখ্য যাত্রী ও তাদের স্বজনরা। নিরাপত্তা বাহিনীর কতিপয় সদস্যের সাথে এসব অপরাধীর যোগাযোগ রয়েছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা। তিনি আরো জানান, এসব অপরাধী এতোই প্রভাবশালী যে, তাদের কেউ কিছু বলবে সে সাহস আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নেই, তাদের প্রভাবে কখনো কখনো আইন শৃংঙ্খলা বাহিনী বিব্রতকর অবস্থায়ও পড়ে।কখনো দেখেও না দেখার ভান করে সময় অতিবাহিত করেছেন। গত জুন মাসেই লাগেজ চুরির ঘটনা ঘটেছে ১৯টি, উদ্ধার হয়েছে ৪টি, গ্রেফতার হয়েছেন ৪ জন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরো কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান ভুক্তভোগী যাত্রী সাধারণ।