একুশে বার্তা প্রতিবেদন : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সিভিল এভিয়েশনের শতাধিক কর্মচারি সোনা, মুদ্রা ,হুন্ডি ও মানব পাচারে জড়িত রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে এদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তালিকা হয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারিতেও রয়েছে। ফৌজদারি ধারায় এদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা হলেও কাউকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি। এদিকে ৭২ ঘন্টার ব্যবধানে ৪ হাজার পিচ ইয়াবা জব্দের পর ৯ কেজি স্বর্ণসহ ৯ জনকে আটক করেছে ঢাকা কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। পৃথক ঘটনায় এই ৯ জনকে পাকড়াও করা হয়েছে। ৩২ স্বর্নের বার পাচারের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতারকৃত আরিফুজ্জামান পলাশ একটি বেসরকারি বিমান পরিবহন সংস্থার ভিআইপি গাড়ির চালক ও যাত্রী হাসান মোহসিন চৌধুরী। গ্রেফতারকৃত অন্যরা হলেন রিমা ও তার সন্তান। এ দিকে গত ২৯ জুলাই সাড়ে ৬ কেজি স্বর্ন পাচারের অভিযোগে সিভিল এভিয়েশনের ক্লিনিং ইনচার্জ জামালসহ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে এপি্বিএন । সোনা জব্দ ও গ্রেফতারের ঘটনা নিশ্চিত করেছেন ঢাকা কাস্টমস কর্তৃপক্ষের ডেপুটি কমিশনার অথেলো চৌধুরী।
তিনি জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেন্টিভ টিম বিমানবন্দরের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নেয়। একটি বেসরকারি বিমানের বিজনেস ক্লাসের ওই যাত্রী ওমান থেকে চট্টগ্রাম হয়ে সকাল ৮টায় বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। ওমান থেকে চট্টগ্রাম হয়ে আসা ফ্লাইটটি যাত্রী নামানোর লক্ষ্যে ‘২৩ নং বে’ তে পার্ক করে। ‘২৩ নং বে’ থেকে যাত্রী হাসান মোহসিন চৌধুরীকে নিয়ে চালক আরিফুজ্জামান পলাশ ভিআইপি কারে করে ইন্টারন্যাশনাল এরাইভালে নিয়ে আসে। এ সময় তাদের আটক করা হয়।
তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বর্ণের বিষয়টি যাত্রী অস্বীকার করে। পরবর্তীতে গাড়িচালকের পা রাখার স্থান পা-দানির নিচে কালো স্কচটেপে মোড়ানো অবস্থায় ৩২টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। এ সময় বিমানবন্দরে বিভিন্ন সংস্থার কর্মীরা উপস্থিতি ছিলেন। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের ওজন ৩ কেজি ৭১২ গ্রাম। এর আনুমানিক মূল্য এক কোটি ৮৬ লাখ টাকা।
এ দিকে সাড়ে ৬ কেজি সোনা পাচারের সাথে জড়িত সিভিল এভিয়েশনের কর্মচারি জামাল ওরফে হুজুর জামালকে জেলে পাঠানো হয়েছে। তাকে চাকরিচ্যুত করেনি সিএএবি প্রশাসন।
সূত্রে জানা গেছে, সোনা পাচারের অভিযোগে সিএএবির কর্মচারি জামাল সারাবছর কোর্ট গায়ে জড়িয়ে এপ্রোন এলাকাসহ সমস্ত গুরুত্ব এলাকা চড়ে বেড়াতো আর কোর্টের পকেটে করে সোনা পাচার করতো বলে গোয়েন্দা সংস্থা খতিয়ে দেখছে। সিভিল এভিয়েশনের শাহজালাল বিমানবন্দরের ডিউটি অফিসার (ডেপো) লতিফের সাথে জামালের দহরম-মহরম সম্পর্ক ছিল। সোনা পাচার করে সিএএবির কর্মচারি জামাল কোটিপতিতে পরিণত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ দিকে সোনা পাচারের দায়ে গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন জেলে থাকার পর শাহজালাল বিমানবন্দরের পরিচালক দপ্তরের পিয়ন মতির ভাই রেজাউল জামিনে বেরিয়ে এসেছে। আবার চাকরিতে যোগদানের পায়তারা করছে।
সূত্র জানায়, শাহজালাল বিমানবন্দরের বিলুপ্ত যাত্রীসেবার নামে বছরের পর বছর ডিউটি করার পর কামাল ওরফে যাত্রী সেবার কামাল সোনা পাচারের সাথে জড়িয়ে পড়ে বলে গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছে। বিপুল পরিমাণ টাকার সোনা গায়েব করে আত্মসাত করার পর গত তিনমাস আগে সোনার পার্টিরা তাকে (যাত্রী সেবা কামাল) বিমানবন্দর থেকে তুলে নিয়ে যায় বলে গুজব শোনা যায়।। ৭ দিন আটকে রাখার পর কয়েক লাখ টাকা আদায় করে কামালকে ছেড়ে দেয়া হয় এমন গুজব ছড়িয়ে পড়েছে বিমানবন্দরে।
সূত্র জানায়, সপ্তাহখানেকের ওপরে ডিউটিতে অনুপস্থিত থা্কার পর বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। এ ঘটনায় শাহজালাল বিমান্দরের ডিউটি অফিসার ডেপো লতিফের সহায়তায় কামালকে বিমানবন্দর থেকে স্ট্যান্ডরিলিজ করে সিভিল এভিয়েশন ট্রেনিং সেন্টার (সিএটিসি)তে পাঠানো হয়। সূত্রেমতে আবার কামালকে সিএটিসি থেকে শাহজালালে বদলির পায়তারা করছে ডেপো লতিফ।
সূত্র জানায়, শাহজালালে সিএএবির প্রায় শতাধিক কর্মচারি সোনা, মুদ্রা, হুন্ডি পাচারসহ মানব পাচারে জড়িত রয়েছে। এদের মধ্যে সোনা পাচারের অভিযোগে এ পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ধারায় মামলা হলেও সিএএবি প্রশাসন এদেরকে চাকরিচ্যুত করেনি।নিরাপত্তা অপারেটর রেখা পারভীনকে চাকরিচ্যুত করার পর উচ্চ আদালতের আদেশে আবার চাকরি ফিরে পেলেও তিনি আর চাকরিতে যোগদান করেননি।
সূত্র জানায় বিভিন্ন পাচারের সাথে সিএএবির যাদের নাম গোয়েন্দা তালিকায় ঠাই পেয়েছে তারা হলেন-নিরাপত্তা গার্ড ‘সি’ পালা শাহাবুদ্দিন (চট্রগ্রাম),বাবুল চন্দ্র রায়,নিরাপত্তা অপারেটর ‘ডি’ পালা শাহজাহান,নিরাপত্তা গার্ড সারওয়ার,কায়সার,আমিনুল,সোহেল,সাইফুল (বরিশাল),আনোয়ার, রেজাউল,সাইদ খন্দকার, বোরহান,জিল্লুর, লম্বা আলমগীর, বিমান এয়ার লাইন্সের ট্রাফিক হেলপার লম্বা সুমন,আমির এবং বিভিন্ন এয়ার লাইন্সের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারি। এদের সাথে যুক্ত হয়েছে এফসেকের কয়েকজন সদস্য।এরা হলেন-রোস্টার ইনচার্জ বেলাল হোসেন,আলামিন, বুলবুল,জসিম।
সিএসও পদ কি বিলুপ্ত : শাহজালাল বিমানবন্দরে প্রধান সিরাপত্তা পদ কি বিলুপ্ত? নতুন অর্গানুগ্রামে এ পদ নেই। দীর্ঘদিন এ পদে কর্মরত খাকার পর সেই বিতর্কিত রাশিদা সুলতানাকে চলতি দায়িত্বের উপপরিচালক করে ট্রেনিংয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এ দিকে পরিচালক নিরাপত্তা পদে এয়ারফোর্স থেকে ৩ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে সিএএবি সূত্রে জানা গেছে।প্রশ্ন ওঠেছে শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে কি বেসামরিক জনবল ওঠে যাবে?
