সদস্য (অর্থ)’র পিএ হাফিজের ঘুষ কেলেংকারি : দায়িত্ব ভাতাও দেয়া হচ্ছে

বিশেষ সংবাদদাতা : বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন অথরীটির সদস্য ( অর্থ) পদটি অত্যন্ত ভাইটাল পদ। এ পদে কর্মরত সরকারের যুগ্ম সচিব পদ মর্যাদার ব্যক্তিকে প্রেষণে নিয়োগ দেয়া হয়ে থাকে। বর্তমানেও সরকারের একজন যুগ্ম সচিবকে এ পদে বসানো হয়েছে। এ পদে কর্তার বদলি হলেও তার পিএ’র বদলি হয় না দীর্ঘ প্রায় ৪ বছর ধরে। হাফিজ নামের একজন কর্মচারি সদস্য (অথ)’র পিএ হিসেবে এ পদে কর্মরত। এ পদে হাফিজকে দায়িত্ব পালনের জন্য তাকে সিএিএবির তহবিল থেকে বেতনের সাথে দায়িত্ব ভাতাও দেয়া হয় বলে সিএএবির সূত্র জানা
সিএএবির ঠিাদাররা জানান, প্রতি অর্থবছরে সিভিল এভিয়েশনে কমপক্ষে হাজার কোটি টাকার ঠিকাদারি কাজ হয়ে থাকে। প্রতিটি ঠিকাদারি কাজের মূল্যায়ন ও ব্যয়মন্ঞরির জন্য হাফ হাফ করে শতকরা ১ ভাগ ঘুষ হাতিয়ে এই পিএ হাফিজ। এই ঘুষের টাকা না দিলে ঠিকাদারি কাজের মূল্যায়ন হয় না, ব্যয় মন্ঞরির চিঠি হয় না। এই শতকরা ১ ভাগ ঘুষ যেন ঠিকাদারের পরিশোধ করা অনেকটাই বাধ্যতামুলক হয়ে পড়েছে।
ঠিকাদাররা জানান, ইতিপূর্বে কমল দে নামের সদস্য (অর্থ) জোর করে ফাইল আটকে ঘুষ আদায়কে কেন্দ্র করে তার রুমের ভিতর ৬ ঘন্টা আটকে রাখে ঠিকাদাররা। এ সময় উত্তেজিত ঠিকাদাররা তার রুমের দরজায় আঘাত করতে থাকে। ঘটনার ব্যাপকতায় কর্তৃপক্ষ তাকে সিএএবি থেকে প্রত্যাহার করে নেয়। কমল দেকে প্রত্যাহার করা হলেও এর পর ওই চেয়ারে যারাই বসেছেন বা এসেছেন তাদের ঘুষ আদায় করা বন্ধ হয়নি। আর এই ঘুষ আদায়ের নায়ক হচ্ছে পিএ হাফিজ। রহস্যজনক কারনে তাকে সদস্য (অর্থ)’র পিএ’র পদ থেকে অন্যত্র বদলি করা হচ্ছে না।
এ ব্যাপারে পিএ হাফিজ জানান, আমার চাকরি ২০০৮ সালে, চাকরির অর্ধেক সময় এ পদে কর্মরত আছি। পিএ হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য দায়িত্ব ভাতার দেয়ার কথাও তিনি স্বীকার করেন। তবে তিনি জানান, আমার কোন সাইনিং পাওয়ার নেই, কাজেই ঘুষ নেয়ার ক্ষমতা আমার নেই। ঠিকাদারি কাজের মূল্যায়ন ব্যয়মন্ঞরির জন্য শতকরা ১ ভাগ ঘুষ নেয়ার কথাও তিনি অস্বীকার করেন। তিনি জানান, এ ব্যাপারে তদন্ত করলেও কোন বাস্তবতা মিলবে না।