সিএএবি : বদলির পরও সদস্য (প্রশাসন) বহাল থাকার তদবির : ১ হাজার ডলার চুরির নায়ক স্বঘোষিত নেতা ফরিদের তদবির বাণিজ্য থেমে নেই : দুই এডির নেকনজড়

বিশেষ সংবাদদাতা : গত ৪ অক্টোবর সিভিল এভিয়েশনের সদস্য (প্রশাসন), সরকারের অতিরিক্ত সচিব মো. হেমায়েত হোসেনকে সিভিল এভিয়েশন থেকে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে বদলি করার সপ্তাহখানেক অতিক্রান্ত হতে চললেও তিনি এখনও সিএএবিতে বহাল। সিএএবির চেয়ারম্যান দেশের বাইরে থাকায় তিনি সব নীতি নির্ধারনী বৈঠক করছেন, বলছেন যে, আরো কিছুদিন থাকতে পারলে সিএএবির কর্মচারিদের আরো ভাগ্যন্নোয়ন করতে পারতেন। আবার বলছেন যে, আমাকে তো চলে যেতে হচ্ছে। কিন্ত ভিতরে ভিতরে সিএএবিতে থাকার জন্য জোরালো তদবির করছেন বলে শোনা যায়। স্বঘোষিত কর্মচারীদের নেতা সেজে যাওয়া , যার বিরুদ্ধে ১০০০ হাজার ইউএস ডলার চুরির অভিযোাগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে- সেই নেতা ফরিদ তার দলবল নিয়ে সদস্য (প্রশাসন)কে সিএএবিতে বহাল রাখার তদবির করে বেড়াচ্ছেন। নেতা নাকি ঘোষণা দিয়েছেন প্রয়োজনে বিমান মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় সভাপতির সাথে দেখা করে সদস্য (প্রশাসন)কে সিএএবিতে বহাল রাখার তদবির করবেন। এই স্বঘোষিত নেতার দলে রয়েছেন এফওডি সাকিবুর রহমান, স্টোরম্যান রায়হান মিয়া ( সংলগিন ব্রোর্ডিং ব্রীজ), এ্যারোড্রম অপারেটর আনোয়ার হোসেন, তপন চৌধুরি, যোগাযোগ সহকারি মাহফুজুর রহমান, অফিস সহকারি সিএটিসি তাইজুল ইসলাম, ফোরম্যান মতিউর রহমান। এসব সদস্যদের নিয়ে নেতা ফরিদ উদ্দিন ডিডি, দুইজন এডির কক্ষে বার বার প্রবেশ করছেন, বসছেন, চা-চক্্র করছেন, গালগপ্প করছে। এডি (প্রশাসন-২) রফিকুল ইসলামের কক্ষে আড্ডায় মেতে ওঠছেন। চেয়ারম্যানের পিএস সদ্য সেমুসে বদলিকৃত, পরে আবার তা বাতিল করা সেই এডি সোহেল মো. কামরুজ্জামান এই নেতা ফরিদকে তার কক্ষে জামাই আদরে আাপ্যায়ন করে যখন-তখন চেয়ারম্যানের সাথে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। সিএএবির সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ সব খবর জানা গেছে।
সিএএবিতে কর্মচারিদের কোন সংগঠন করার অনুমতি না থাকলেও এই স্বঘোষিত কর্মচারিদের নেতা তার কর্মস্থলে হাজিরা দিয়ে সিএএবির সদর দপ্তরে ঘুর ঘুর করতে অনেকে দেখেন। আর এর সুবাধে তিনি নিয়োগ. বদলি, পদোন্নতি, টেন্ডার বাণিজ্য করে বেড়ান। কর্মচারিদের ক্যান্টিন বিষয়ক অডিট আপত্তি নিষ্পতিকরনের নামে বিভিন্ন বিমানবন্দরের কর্মচারিদের থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগও শোনা যায়। সদস্য (প্রশাসনের) গাড়িচালক শহিদুল্যার সাথে এনিয়ে বাকবিতন্ডা হয়, পরে তারা মিলে যায়।
তার বিরুদ্ধে জনৈক এক আন্তর্জাতিক যাত্রীর থেকে ১ হাজার ইউএস ডলার ও ৫টি সিংগাপুর এয়ার লাইসেন্সের টিকিটসহ এপিবিএন পুলিশের হাতে হাতেনাতে আটকের পর তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি কর্তৃক চুরির অভিযোগে বিভাগীয় মামলা হয়। এরপরও তিনি এখনও বহাল এবং সিএএবিতে জোরালো তদবিরকারক হিসেবে তার নাম ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি কখনো অফিসারদের পক্ষে কখনো কর্মচারিদের পক্ষে তদবির করে থাকেন। এবার এই নেতা ফরিদ বদলিকৃত সদস্য (প্রশাসন)কে সিএএবিতে রাখার জন্য তার দলবল নিয়ে বিভিন্নভাবে তদবির করে বেড়াচ্ছেন।
নিয়োগ বাণিজ্যের নামে সুবিধা হাতিয়ে নেয়া : গত জুনে সিএএবিতে নিয়োগ বাণিজ্যের নামে মোটা অংকের সুবিধা হাতিয়ে নেয়ার কথাও শোনা যায়। পরিচালক (প্রশাসনের) পিএ হানিফ কয়েক লাখ টাকার নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন বলেও শোনা যায়। পরিচালক সিএটিসি পিএ হানিফের মাধ্যমে ৬ চাকরিপ্রার্থীকে চাকরি দিতে ব্যর্থ হবার পর হানিফকে ডেকে শাসিয়ে দেন। এ ঘটনায় একটি চেকও নাকি হস্তান্তর হয়। চাকরিপ্রার্থী ওই ৬ জনের ফাইল পুটআপ দেয়া হয় পরিচালক (প্রশাসনের) দপ্তর থেকে। কিন্ত সদস্য (প্রশসন) তা আটকে দেন। এ নিয়ে দুইজনের মধ্যে ক্ষমতার রশি টানাটানি শুরু হয়। একজন আারেকজনের বিরুদ্ধে বিষোদগার করতে থাকেন, বিসিএস প্রশাসন সমিতিতে বিষয়টি আলোচনায় আসে। পরে দুইজনকেই বদলি করা হয়। পরিচালকের পিএ হানিফকে বলিরপাঠা বানিয়ে চট্রগ্রামে বদলি করা হয়। চাকরি দেবার নামে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ ওঠলেও তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়নি।ক্রমশ