সিভিল এভিয়েশন : অর্গানোগ্রামের বাইরে নতুন করে প্রধান প্রকৌশলী ই/এম পদ সৃষ্টিতে মন্ত্রণালয়ের মতামত : বংগবন্ধুর বিল বোর্ডের কাজ সম্পন্নের পরও ১৬ লাখ টাকার বিল দিতে গড়িমসি : নিয়োগ বাণিজ্য, মেধাশূন্য হয়ে যাচ্ছে সিএএবি : ভুয়া সনদে চাকরি, আবার ক্যান্সেল : দুটি পদে পেন্ডিং : নিয়োগ বাণিজ্যের হোতা হানিফের বিরুদ্ধে এখনও বিভাগীয় মামলা হয়নি : গোমর ফাস করে দেয়ার হুমকি

বিশেষ সংবাদদাতা : সিভিল এভিয়েশনের নিয়োগ বাণিজ্যে মেধা শূণ্য হয়ে যাচ্ছে । চাকরির নিয়োগ পরিক্ষায় প্রথম হলেও চাকরি হচ্ছে না। অথচ ভুয়া সনদ এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে কম মেধাবীদের বিভিন্ন কোটায় চাকরি দেয়া হচ্ছে। গত মে/২০১৮ মাসের নিয়োগে এ রকম বাণিজ্য করা হয়েছে। আর এ সুবাধে লাখ লাখ টাকা করে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার কথা ফাস হওয়ার পর পরিচালক প্রশাসনের পিএ হানিফকে বলিরপাঠা বানিয়ে চট্রগ্রাম বিমানবন্দরে বদলি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে এখনও বিভাগীয় মামলা করা হয়নি। এদিকে হানিফ গোমর ফাস করে দেয়ায় হুমকিতে আতংকে বড় কর্তারা।
এদিকে আড়াই হাজার জনবল সম্বলিত নতুন অর্গানোগ্রামে প্রধান প্রকৌশলী ই/এম পদের বালাই না থাকলেও নতুন করে এই পদ সৃষ্টির জন্য সিএএবির চেয়ারম্যানের মতামতের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয়ের একজন উপসচিব, মন্ত্রীর পিএস’র অতিমাত্রায় আগ্রহিতায় শেষাবধি সচিব দেশের বাইরে থাকাবস্থায় মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এর সত্যতা স্বীকার করেছেন ততা¡বধায়ক প্রকৌশলী ই/এম মো. আব্দুল মালেক।
তাকে প্রধান প্রকৌশলী ই/এম পদে নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এ সংক্রান্ত লালমাটিয়ার মন্ত্রণালয়ের একজন উপসচিবের বাসায় সিটিংও হয়েছে বলে শোনা গেছে।
অপরদিকে জাতির জনকের বিল বোর্ডের ঠিকাদারি কাজ সম্পন্ন হওয়ার দীর্ঘদিন পরও ১৬ লাখ টাকার বিল দিতে গড়িমসি করছে সিভিল এভিয়েশন। জাতির জনকের ঠিকাদারি কাজ সম্পন্ন হলেও বিল না দেয়া জাতির জন্য লজ্জা নয় কি- এ প্রশ্ন সংশ্লিষ্টদের।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত মে/১৮ মাসের নিয়োগ পরিক্ষায় হিসাবরক্ষক পদে বিশেষ মহিলা ও পংগু কোটায় অধিকতর ইন্টারভিউতে খারাপ করার পরও সিলেক্ট কওে ২ মহিলা ও ২ পুরুষ নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে কারো চাকরি ৩ মাসেই স্থায়ীকরণ করা হয়েছে।
হিসাব সহকারি পদে রওশন আরা রুমি (পিতা আব্দুর রাজ্জাক সরকার,সিএটিসিতে কর্মরত) অনার্স, মাস্টার্সধারি হওয়ার পরও এবং পরিক্ষায় ভাল করার পরও তাকে নিয়োগ না দিয়ে আনসার কোটায় কম মেধা সম্পন্ন প্রার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস জিয়াকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
ইন্ঞিন চালক পদে জাল সনদ প্রার্থী কাজী ফাহাদকে সিলেক্ট করা হয়েছে। অথচ আবুল কালাম আজাদ ট্রিপল ‘ই’ অর্থাৎ ‘ ইইই’তে প্রথম শ্রেণী হওয়া এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সনদধারি সত্বেও তাকে নিয়োগ দেয়া হয়নি।
রেডিও মিস্ত্রি পদে বিএম ইমরান হোসেনকে নিয়োগ দেয়ার পর তার জাল সনদ ধরা পড়ার পর তার নিয়োগ ক্যান্সেল করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, জাল সনদের কথা প্রার্থীরা আগেই স্বীকার করার পরও তাদের থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে চাকরি দেয়া হয়েছে। অথচ মৌখিক পরিক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রবেশপত্র , মূল সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আনতে তাগাদ দেয়া হয়েছে।
ইতিপূর্বে এক তদন্তে চাকরিতে নিয়োগকৃত ৭২ জনের জাল সনদের বিষয়টি উৎঘাটিত হওয়ার পর ২ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, বাকিদের ব্যাপারে ফাইল ধামাচাপা দেয়া হয়েছে। ডিডি (প্রশাসন) এর সত্যতা স্বীকার করেছেন।
নিয়োগ বাণিজ্য ফাস হওয়ার পর লাখ লাখ টাকা যাদের থেকে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে তারা পিএ হানিফকে চাপ দেয়ায় বলিরপাঠা বানিয়ে হানিফকে চট্রগ্রাম বিমানবন্দরে বদলি করা হয়েছে। আর তার বস পরিচালক (প্রশাসন) ট্রেনিংয়ে দেশের বাইরে। যাদের থেকে নিয়োগ বাণিজ্যের নামে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে তাদের চাকরি না হওয়ায় তারা বাণিজ্যের হোতা পিএ হানিফকে চাপ দেয়ায় তাকে ঢাকা থেকে চট্রগ্রামে বদলির নামে ‘সেইভ’ করা হয়েছে। তা না হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হচ্ছে না কেন?
নিয়োগ বাণিজ্যের কথা স্বীকার করে সিএএবির একজন পরিচালক জানান, মেধাবিদের নিয়োগ না দিয়ে কম মেধা, ভুয়া সনদধারিদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে, দু-একজনের নিয়োগ দেয়ার পর তা আবার ক্যান্সেলও করা হয়েছে। হোতা হানিফের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করছে না প্রশাসন। ক্রমশ