বিশেষ সংবাদদাতা : বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশনে অর্থ বছর শেষ হলেও দেদারচ্ছে ব্যাকডেটে গত অর্থবছরের ঠিকাদারি কাজের ফাইলে স্বাক্ষর করা হচ্ছে। সমস্ত বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক/ পরিচালকসহ সিএিএবির সদর দপ্তরে প্রতিদিন ব্যাকডেটে ফাইল স্বাক্ষরের হিড়িক পড়ে গেছে। এই ব্যাকডেটে ফাইল স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে প্রকৌশলীদের পছন্দের ঠিকাদারদের ঠিকাদারি কাজের মূল্যায়ন ও ব্যয় মন্ঞরির জন্য তালিকা করে চেয়ারম্যানের দপ্তরে পাঠানো হচ্ছে। আর সদর দপ্তরের চেয়ারম্যানের কার্যালয়সহ সমস্ত দপ্তরে ব্যাকডেটে ফাইল স্বাক্ষর করা হচ্ছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিএএবির ডিভিশন-৩-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোকাব্বর আলি ঠিকাদার কর্তৃক গত ১ জুন সদর দপ্তরে লান্ঞিত হয়েছেন বলে বিষয়টি সিএএবিতে বেশ চাউর হয়ে গেছে।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোকাব্বর আলি জানান, সব ঠিকাদারের ফাইলই স্বাক্ষর করা হচ্ছে, তালিকা করে চেয়ারম্যানের দপ্তরে পঠানো হচ্ছে, চেয়ারম্যান স্যার সই করছেন। নাম প্রকাশ না করে বলেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের ঠিকাদারি কাজের মূল্যায়নের তারিখ আগামি ৪ জুন দেয়া হচ্ছে। কিন্ত তারা তা মানতে নারাজ, তারা এ নিয়ে সাউটিং শুরু করেছে। সদর দপ্তরে এ নিয়ে উত্তেজনার মুহূর্তে আমি সন্তর্পনে কেটে পড়ি।
এ ব্যাপারে ঠিকাদার শাহিন ওরফে রাজশাহির শাহিন জানান, পছন্দের ঠিকাদারদের ঠিকাদারি কাজের তালিকা করে চেয়ারম্যানের দপ্তরে প্রতিদিনই পাঠানো হচ্ছে, কিন্ত আমাদের কাজের মুল্যায়ন হয়েছে গত অর্থবছরে। কিন্ত তার ব্যয়মন্ঞরির জন্য চেয়ারম্যানের দপ্তরে তালিকা পাঠানো হচ্ছে না। এ নিয়ে নির্বাাহি প্রকৌশলী গড়িমসি করছেন। তিনি আরো জানান , এ নিয়ে আমরা চেয়ারম্যানের সাথে সাক্ষাতও করেছি। চেয়ারম্যান আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে সব কাজের তালিকা করে আমার দপ্তরে পাঠানো হচ্ছে তা সবই স্বাক্ষর করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ডিভিশন-৩-এ কর্মরত নির্বাহী প্রকৌশলী মোকাব্বর আলির বিরুদ্ধে যেন অভিযোগের অন্ত নাই। তার অবৈধ সম্পদের অভিযোগে দুদক তাকে ডেকে জিঙ্ঘাসাবাদ করেছে। সিএএবির দুটি গাড়ি ব্যবহার নিয়েও তার বিরুদ্ধে তদন্ত হচ্ছে। ঠিকাদাররা অভিযোগ করেন, নির্বাহী প্রকৌশলী মোকাব্বর আলি শতকরা ১০ ভাগ ঘুষ হাতিয়ে না নিয়ে ঠিকাদারি কাজের এমবিতে সই করেন না। অনেক ঠিকাদার তাকে মি. টেনপার্সেনও বলে বেড়ান। ঠিকাদাররা আরো জানান, হ্জ্ব করে এসেও নির্বাহী প্রকৌশলী ঘুষ খান। এটা পবিত্র হজ্বেও অপবিত্রতা হচ্ছে বলেও অনেক ঠিকাদার মন্তব্য করেন।
ব্যাকডেটে সই করার হিড়িক : সিভিল এভিয়েশনে কারেন্টডেট না দিয়ে কারেন্টডেটে পিছনের তারিখ অর্থাৎ ব্যাকডেটে সই করার হিড়িক পড়ে গেছে। সিএএবির সদর দপ্তরের চেয়ারম্যানের দপ্তর থেকে শুরু তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক এবং দেশের ১০টি বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপকরা ব্যাকডেটে ঠিকাদারি কাজের ফাইলে দেদারচ্ছে সই করছেন। অর্থবছর শেষ হলেও বাজেট শেষ হয়নি। বাজেটের টাকা চলতি অর্থবছরে ব্যাকডেটে সই করে টাকা করচ করার হিড়িক পড়ে গেছে সিএএবিতে। প্রতিদিনই কোটি কোটি টাকার ঠিকাদারি কাজের ফাইল ব্যাকডেটে সই করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ খবর জানা গেছে।
সূত্র জানায়, ব্যাকডেটে সই করা ঠিকাদারি কাজের মধ্যে রয়েছে সদর দপ্তরের নতুন ভবনের প্রায় কোটি টাকার কাজ। কক্সবাজার প্রকল্পের ৭০ কোটি টাকার কাজসহ সব মিলিয়ে প্রায় ১ শ’ কোটি টাকার ঠিকাদারি কাজের ফাইলে ব্যাকডেটে সই করা হচ্ছে। কারন অর্থবছর শেষ কিন্ত বাজেট শেষ হয়নি, বাজেটের এসব টাকা ব্যাকডেটে সই করে লুটপাটের মহোৎসব চলছে বলে অনেকে মন্তব্য করেন। সিএএবির যে সব শাখা থেকে ঠিকাদারি কাজের এ সব ফাইলে স্বাক্ষর করা হচ্ছে সে সব দপ্তর হচ্ছে: হিসাব দপ্তর, প্রকৌশল দপ্তর, চেয়ারম্যান দপ্তর,সমস্ত বিমানবন্দরের পরিচালক/ ব্যবস্থাপকের দপ্তর, সমস্ত ডিভিশন দপ্তর। ঠিকাদারদের অভিযোগ রয়েছে সদর দপ্তরের হিসাব শাখা থেকে শতকরা ১ ভাগ ঘুষ ছাড়া ঠিকাদারি কাজের ব্যয় মন্ঞরি ও মুল্যায়ন করা হয় না। সদস্য (হিসাব)-এর পিএ (যিনি একই চেয়ারে প্রায় ১০ বছর যাবত কর্মরত) হাফিজের মাধ্যমে এসব ঘুষের টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে বলে ঠিকাদাররা আলাপচারিতায় জানান।
চেয়ারম্যানের চাকরি ১ বছর নবায়ন : গত ২৮ জুন সিএএবির চেয়ারম্যানের একবছর প্রেষণে চাকরির মেয়াদ শেষ হয়েছে। তাকে আরো এক বছরের জন্য সিএএবির চেয়ারম্যান হিসেবে চাকরির মেয়াদ নবায়ন করা হয়েছে বলে সিএএবি সূত্রে জানা গেছে।
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
