শাহজালালে অগ্নিকাণ্ডের এক বছর:সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী মিঠুর আমদানিদরদী: বেবিচকের ফায়ার পরিচালকের দিকনির্দেশনা : বিমানের জামাল উদ্দিন এখনও বহাল: কার্গোতে রোস্টার বাণিজ্য

ডেক্স রিপোর্ট: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের এক বছর পূর্ণ হচ্ছে ১৮ অক্টোবর। ঘটনার পর অগ্নিনিরাপত্তা জোরদারে ১৪ দফা সুপারিশ করা হয়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব সুপারিশের বেশির ভাগ বাস্তবায়নের পথে। নেওয়া হয়েছে অগ্নিনিরাপত্তা জোরদার, নিয়মিত টহল, প্রশিক্ষণ ও জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার উদ্যোগ। তবে আমদানিকারকদের দাবি, কার্গো ব্যবস্থাপনায় এখনও ঝুঁকি রয়েছে। নতুন কার্গো কমপ্লেক্সও পুরোপুরি চালু হয়নি।
সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী নেতা হয়ে মিঠু আদমানিদরদী বক্তব্য প্রদান করেছেন। আমদারিকারক ডিএইচএল-এর সেড থেকে বার বার অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলেও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি ।
বেবিচকের পরিচালক ফায়ার রফিকুল ইসলাম দিকনির্দেশনামুলক বক্তব্য প্রদান করেছেন।
বিমানের আমদানি কার্গো ম্যানেজার জামাল উদ্দিন এখনও পুরনো জায়গায় বহাল। তৌহিদ, শ্যালক জাকির স্ব স্ব অবস্থানে। আবারও রোস্টার বাণিজ্য জমজমাট। বলিরপাঠা হচ্ছেন নীরিহ নিরাপত্তারক্ষীরা। তবে এবার জামাল-তৌহিদ-জাকির সিন্ডিকেডের বদলে —- নতুন সিন্ডিকেড সক্রিয় বলে জানা যায়।
গত ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর দুপুর সোয়া ২টার দিকে বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেটসংলগ্ন কার্গো ভিলেজ কমপ্লেক্সে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিটের পাশাপাশি সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। বিজিবিও উদ্ধার ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে অংশ নেয়। ওই দিন রাত ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলে ফ্লাইট চলাচল পুনরায় শুরু হয়। তবে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করতে ১৯ অক্টোবর বিকাল ৪টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত সময় লাগে। সব মিলিয়ে প্রায় ২৭ ঘণ্টা ধরে চলে আগুন নেভানোর কাজ। এ ঘটনায় ২৫ জন আনসারসহ মোট ৩৫ জন আহত হন। পুড়ে যায় হাজার কোটি টাকার পণ্য ও গুরুত্বপূর্ণ নথি।
ঘটনার পর বিমানবন্দরের বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি কার্গোসহ পুরো বিমানবন্দর এলাকায় অগ্নিনিরাপত্তা জোরদারে ১৪টি সুপারিশ করে।
এসব সুপারিশের মধ্যে ছিল অস্থায়ী ফায়ার হাইড্রেন্ট স্থাপন, ফায়ার হাইড্রেন্ট ও স্প্রিংকলার ব্যবস্থা চালু, জরুরি সংকেত স্থাপন, ফায়ার বক্সসহ হোস পাইপ বসানো, অচল ফায়ার হাইড্রেন্ট মেরামত, স্থায়ী ফায়ার স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ এবং অগ্নিনিরাপত্তা অবকাঠামো ও জরুরি সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানো।
এ ছাড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মাধ্যমে ফায়ার ক্রুদের প্রশিক্ষণ, ভূমি অধিগ্রহণের দলিল সংগ্রহ, বিমান বাহিনীর সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তি আধুনিকায়ন এবং কেন্দ্রীয় ফুয়েল শেডের প্রকল্প বাস্তবায়নের সুপারিশও করা হয়। জেনারেল এভিয়েশন হ্যাঙ্গার কমপ্লেক্সে ফায়ার হাইড্রেন্ট, স্প্রিংকলার ও ডিটেকশন সিস্টেম স্থাপনের পাশাপাশি এমটিপুল, সেমসু ও সিএটিসির চারটি পয়েন্টে ফায়ার বক্সসহ হোস পাইপ বসানোর কথা বলা হয়। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সাতটি অচল ফায়ার হাইড্রেন্ট মেরামত এবং ফায়ার সার্ভিসের অস্থায়ী স্টেশনের গাড়ি রাখার শেড নির্মাণের বিষয়ও ছিল সুপারিশে।
আমদানিকারকদের দাবি, ঝুঁকি রয়ে গেছে
শাহজালাল বিমানবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি খায়রুল আলম ভূঁইয়া মিঠু গণমাধ্যমে বলেন, ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর আমদানিকারকদের কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি। এমনকি ওই ঘটনার পর এ বিষয়ে সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তারপরও দেশের বৃহত্তর স্বার্থে আমদানিকারকেরা পণ্য আমদানি করছেন।
মালামাল পড়ে থাকলে পণ্যের ক্ষতির পাশাপাশি অগ্নিঝুঁকিও থাকে।
অগ্নি ঘটনায় তদন্ত সংস্থার সুপারিশ বাস্তবায়নে অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন বেবিচকের এক সদস্য । তিনি বলেন, কার্গো এলাকার নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়গুলো দেখভাল করবে বিমান ও কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলো। বেবিচক তাদের জায়গা লিজ দিয়েছে। তারা নিজেদের দুর্বলতা দূর না করলে দুর্ঘটনার দায়ও তাদের বহন করতে হবে।
বেবিচকের ফায়ার সেফটি বিভাগের পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ভয়াবহ ওই ঘটনার পর অগ্নিনিরাপত্তা জোরদারে ব্যাপক কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি অফিসের বৈদ্যুতিক তার ঢিলা আছে কিনা, শর্ট সার্কিট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে কি না; এসব যাচাই করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ফায়ার সেফটি প্ল্যান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে জমা দেওয়া হয়েছে। ওই পরিকল্পনায় স্মোক ডিটেক্টর ও অ্যালার্মিং সিস্টেম রয়েছে। কোনো ধরনের ধোঁয়া শনাক্ত হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যালার্ম বেজে উঠবে। এ ছাড়া প্রতিদিন ভোর, সকাল ও রাতে টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।