এবার জেট এয়ার ওয়েজে আসলো মাদক : শাহজালালে নতুন মাদকের চালানটি জব্দ করলো কাস্টমস কর্তৃপক্ষ

একুশে বার্তা প্রতিবেদন : আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়া থেকে আকাশপথে  বিমানে করে  আসা কয়েকটি কার্টন জব্দ করার ৩দিন পর বস্তা খুললেই  ধরা গেল নতুন মাদক এনপিএস জাতীয় গাজা।  যা তরল করে  খেলে অনেকটা ইয়াবার মতো উত্তেজনার সৃষ্টি করে মানবদেহে।  ১৬০ কেজি গাঁজা জাতীয় এই নতুন মাদক  জব্দ করেছে  ঢাকা কাস্টম হাউজ কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা কাস্টমস হাউজ সূত্রে জানা গেছে, ইথিওপিয়ান গাঁজা নামে পরিচিত এই মাদককে এনপিএস (নিউ সাইকোঅ্যাকটিভ সাবসটেন্স) হিসেবে চিহ্নিত করছে জাতিসংঘ মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থা।

আকাশপথে  আন্তর্জাতিক কুরিয়ারের ডাকযোগে বাংলাদেশে আসা মাদকের এই চালানটি  শাহজালাল বিমানবন্দর কার্গো হাউজে তিন দিন পর্যবেক্ষণের পর ৮ সেপ্টেম্বর  শনিবার সকালে সকল সংস্থার উপস্থিতিতে ওপেন করা হয়।

ঢাকা কাস্টমস হাউজের উপ কমিশনার  যিনি বদলির পরও বহাল সেই অথেলো চৌধুরি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বিভিন্ন  গনমাধ্যমকে  বলেন, গত ৬ সেপ্টেম্বর ভারত থেকে আসা জেট এয়ারওয়ের ফ্লাইটে আসা ৯টি কার্টন সন্দেহজনক হওয়ায় তা জব্দ  করা হয়।

তিন দিনেও কার্টনগুলো নিতে কেউ না আসায় শনিবার জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সামনে কার্টনগুলো খোলা হয়।

তিনি জানান, ঢাকার তুরাগ থানার বাদলদী এলাকার ২ নম্বর রোড়ের এশা এন্টারপ্রাইজের ঠিকানায় এই কার্টনগুলো ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবার জিয়াদ মুহম্মদ ইউসুফের মাধ্যমে বাংলাদেশে আনা হয়।

মাদক হিসেবে ইয়াবার ব্যাপক প্রসার ঘটার পর তা দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মধ্যে নতুন ধরনের এই মাদকের চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করলো।  গত ৩১ আগস্টও  একই ধরনের আরেকটি নতুন ধরনের ৪৬০ কেজি মাদকের চালান জব্দ করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

এ ধরনের নতুন মাদক আনা হয় মিস ডিক্লারেশনে। কাস্টমস ও অন্যান্য সংস্থার সাথে বনিবনা হলেই কেবল গেট  কন্ট্রাক্টে তা ছাড়করণ করা হয়্ আর বনিবনা না হলে চালান আটকে দেয়া হয়।   এ ধরনের প্রক্রিয়ার সাথে কাস্টমসের  কতিপয় অসাধু কর্মকতার যোগসাজশ রয়েছে গোয়েন্দা খতিয়ে দেখছে। ঢাকা কাস্টমস এজেন্ট এসোসিয়েশনের একজন উঠতি ডাকসাইটে নেতা নতুন মাদক জার্মানিতে রফতানির সময় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তা আটকে দেয়। ওই নেতার লাইসেন্সও সাসপেন্ড করা হয়েছিল। পরে কাস্টমসের সাথে সমঝোতায় সব ঠিক হয়ে যায়। সম্প্রতি ওই নেতার শতাধিক বিল অব এন্ট্রি জালিয়াতির ঘটনা তদন্ত করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তা ধামাচাপা দেয় বলে সূত্রে জানা গেছে।