বেবিচক: অবশেষে বিতর্কিত ডিডি রাশিদা বিতাড়িত, ঈশ^রদী বিমানবন্দরে বদলি, প্রশ্ন ওঠেছে তার বদলিই কি যথেষ্ট, পালিয়ে গেছে রাশিদার দোসররা: আর্মিরা ঘিরে রেখেছে বেবিচক সদর দপ্তর

স্টাফ রিপোর্টার : পতিত সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বোন পরিচয়ধারি বেবিচকের বিতর্কিত উপপরিচালক রাশিদা সুলতানা ১৫ আগস্টের অনুষ্ঠান পালন করার পূর্ব প্রস্তুতির প্রাক্কালে ১৪ আগস্ট বেবিচকের সদর দপ্তরে হাজির হয়ে নিরাপত্তা বিভাগের লোকজনকে গালিগালাজসহ সাউটিং গেদারিং করতে থাকেন।বেবিচকে বিশৃংখলা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি করার পায়তারা করতে থাকে। আত্মস্বীকৃত আওয়ামীলীগের এ দোসর উপপরিচালক রাশিদা সুলতানা বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সমর্থনকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ বিভিন্ন ধননের হুমকি-ধামকি প্রদান করতে থাকে এবং ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে সিভিল এভিয়েশনে সংঘাত ও বিশৃংখলা করার পায়তারা করতে থাকে। তাকে নাকি গোপনে সমর্থন দিয়ে থাকেন বেবিচকের সদস্য অপারেশন, সদস্য অর্থ ও সদস্য প্রশাসন, সদস্য এফএসআর।
এ খবর পেয়ে ছাত্র-জনতা বেবিচকের সদর দপ্তরে গতকাল ১৪ আগস্ট দুপুরের দিকে প্রবেশ করে বিতর্কিত ডিডি, আওয়ামী দোসর, শেখ হাসিনার বোন পরিচয়ধারি রাশিদাকে ধাওয়া দিয়ে উত্তম-মধ্যম দেয়। এ সময় রাশিদা দৌড়ে চেয়ারম্যানের পিএস ,তার হিতাকাংক্ষী সোহেল কামরুজ্জামানের কক্ষে আশ্রয় নিতে গেলে আশ্রয় পায়নি। কারণ পিএস সোহেল কামরুজ্জামান খবর পেয়ে আগেই পালিয়ে যায়। পরে দৌড়ে চেয়ারম্যানের কক্ষে আশ্রয় নিতে যান। এ সময় দুই চেয়ারম্যানের দায়িত্ব হ্যান্ডওভার অনুষ্ঠান চলছিল। নয়া চেয়ারম্যান রাশিদা চিনতেও পারেননি। পরে মেম্বার এফএসআর রাশিদাকে সেইভ করে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন বলে জানা যায়।
শেষ পর্যন্ত বিতর্কিত এই ডিডি আওয়ামী দোসর, শেখ হাসিনার বোন পরিচয়ধারি রাশিদা সুলতানাকে ঈশ^রদি বিমানবন্দরে বদলি করা হয়েছে বলে বেবিচক সূত্রে জানা যায়। আবার তাকে শাহজালাল বিমানবন্দরে সংযুক্ত করার নাকি পায়তারা করা হচ্ছে।
প্রশ্ন ওঠেছে বেবিচকের বিতর্কিত ডিডি, আওয়ামী দোসর রাশিদার বদলিই কি যথেষ্ট? কর্মচারিরা দাবি করছে তাকে সাসপেন্ড করে চাকরিচ্যুত করা হোক। কারণ তাকে চাকরিই দেয়া হয় আওয়ামী লীগের আমলে সরকারি চাকরির বয়স শেষ হবার পর। তার জন্য সুপারিশ করেন পতিত সরকারের পলাতক মন্ত্রী রআম ওবায়দুল মুক্তাদির চৌধুরি। তার পাসপোর্ট এবং এনআইডিতে ভিন্ন ভিন্ন বয়স-যা তদন্ত করলেই বের হবে। তার বিরুদ্ধে পাহাড়সম অভিযোগের তদন্ত হয় না। তাকে আগলে রাখা হয়, আজকে অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে সেইব করে বদলি করা মাত্র। নতুন চেয়ারম্যান তার সম্পর্কে এতোকিছু জানেনও না।
খবর পেয়ে আর্মি বেবিচকের সদর দপ্তর ঘিরে রেখেছে।
ডিডি রাশিদা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বোন পরিচয়ের সুবাধে সাবেক চেয়ারম্যানকে ম্যানেজ করে ৬০ জন সহকারি পরিচালক- এডিকে টপকিয়ে ৪ জন এডিকে চলতি দায়িত্বের ডিডি করার ষোলকলা পূর্ন করেন। এরা হলেন ৪ চেয়ারমানের আমলের পিএসগিরি করা সোহেল কামরুজ্জামান, (যাকে বদলি করা হয় ফ্লাইট সেফটিতে কিন্ত কায়দা করে সংযুক্তি করা হয় চেয়ারম্যানের দপ্তরে), অন্যরা আনোয়ার হোসেন, আনন্দ মন্ডল এবং কামরুজ্জামান। রাশিদার অবস্থা বেগতিক দেখে ওরা অফিস থেকে পালিয়ে যায় বলে জানা যায়।