শত শত কোটি টাকার দুর্নীতি অভিযোগে সিএএবির প্রধান প্রকৌশলীকে দুদকে তলব : ২৮ জুন সিএএবির চেয়ারম্যানের চাকরির মেয়াদ শেষ হচ্ছে

বিশেষ সংবাদদাতা :  আবারও সিভিল এভিয়েশনের প্রধান প্রকৌশলী সুধেন্দু বিকাশ গোস্বামীকে দুদক তলব করেছে। একাধিকবার দুদক তলব করলেও তার বিরুদ্ধে দুদক এখনও মামলা করেনি। প্রতিবারই দুদক তলব করছে আর জবাবদিহিতার নামে গোপন সমঝোতায় তা বার বার ভেস্তে যাচ্ছে বলে সিএএবিতে গুনজন রয়েছে। তার অনুগত ১১ ঠিকাদারসহ ৪০ ঠিকাদারকে দুদক তলব করলেও এ পর্যন্ত একমাত্র নির্বাহ প্রকৌশলী আছির উদ্দিন ব্যতীত কারো নামে দুদক মামলা করেনি। দুদকে ভাষায় কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে তলব করে পরবর্তীতে তা চুপসে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে দুদক চেয়ারম্যানকে অন্ধকারে রাখা হয়েছে বলেও অনেকে মনে করেন।

সূত্রে জানা গেছে, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডসহ দুর্নীতির দুই অভিযোগে বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী সুধেন্দু গোস্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত ৪ জুন সোমবার  পৃথক দুটি দাপ্তরিক চিঠিতে  আগামী ১০ ও ১২ জুন দুইদিন রাজধানীর সেগুন বাগিচাস্থ দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাকে হাজির হতে বলা হয়েছে বলে দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন। সুধেন্দুর বিরুদ্ধে দুদকে আসা দুর্নীতির দুটি অভিযোগ নিয়ে পৃথকভাবে অনুসন্ধান করছেন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের দুই সহকারী পরিচালক মো. খায়রুল হক ও মো. আ. সালাম আলী মোল্লা। দুদক কর্মকর্তা খায়রুল হক সিভিল এভিয়েশন বা বেবিচকের প্রধান প্রকৌশলীকে ১২ জুন জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। তিনি যে অভিযোগের তদন্ত করছেন, তাতে বলা হয়েছে, সিভিল এভিয়েশনের মেইনটেনেন্স, কনস্ট্রাকশন, কেনাকাটা ও ফান্ড ম্যানেজমেন্টে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের শত শত কোটি টাকার অনিয়ম, দুর্নীতি, আত্মসাৎ ও সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাড়ি-গাড়িসহ অঢেল অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বেবিচকে কী কী প্রকল্পের কাজ হয়েছে তার তালিকা, এই দুই অর্থবছরে কেনাকাটা খাতে কত টাকা ব্যয় হয়েছে তার বিস্তারিত বিবরণ, একই সময়ে নির্মাণ ও সংস্কার খাতে কত ব্যয় হয়েছে তার বিবরণ, আইটি খাতে কত বরাদ্দ ছিল এবং কী কী কাজ করা হয়েছে তার বিবরণ এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরের সব ধরনের নিরীক্ষা প্রতিবেদন নিয়ে যেতে বলা হয়েছে প্রধান প্রকৌশলীকে।

অন্যদিকে মো. আ. সালাম আলী মোল্লা বেবিচকের প্রধান প্রকৌশলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন আগামী ১০ জুন। বেবিচকের প্রধান প্রকৌশলী ও অন্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করছেন সালাম মোল্লা। এর আগে গত বছরের ১৯ অক্টোবর ঘুষ নেয়ার অভিযোগে সুধেন্দু গোস্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল দুদক। ওই অভিযোগের বিষয়ে তখন দুদক বলেছিল, নয়টি প্রতিষ্ঠান বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের দুই প্রকৌশলীকে নির্দিষ্ট হারে ঘুষ দিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে।

পার পেয়ে যাচ্ছেন কক্সবাজার বিমানবন্দর প্রকল্পের প্রজেক্ট ড্রাইরেক্টর পিডি প্রকৌশলী  আমিনুল হাসিব। কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে দুদক তাকে তলব করলেও পরবর্তীতে তা ভেস্তে যাচ্ছে। তার সাথে তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী  পিএন্ডডকিউএস মন্ত্রণালয় এবং দুদক বার বার তলব করলেও কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তিন বিমানবন্দরে  কোটি কোটি টাকার কাজের অনিয়মসহ কয়েক কোটি টাকার নেগোসিয়েশন হলেও প্রধান প্রকৌশলী কোন দাপ্তরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। সিএএবিতে একাধিক যোগ্য প্রকৌশলী থাকা সত্বেও এক ব্যক্তিকে একাধিক প্রকল্পের পিডি করা হয়েছে।

চেয়ারম্যানের চাকরির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২৮ জুন : এই প্রথম কোন বিমান বাহিনীর কর্মকর্তাকে চাকরিতে এপিআরে যাওয়ার পর তারএলপিআর বাতিল করত আবার তাকে স্ব সংস্থায় ফিরিয়ে এনে  ১ বছরের জন্য প্রেষণে সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যানের  দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আগামি  ২৮  জুন তার  ১ বছরের চাকরিরর মেয়াদ হবে। প্রশ্ন ওঠেছে তাকে সিভিল এভিয়েশন থেকে সরিয়ে নেয়া হবে নাকি তার চাকরির মেয়াদ সিএএবিতে দ্বিতীয়বার নবায়ন করা হবে। যদি নবায়ন করা না হয় তবে সিএএ বির চেয়ারম্যান ইদের পর বিদায় নেবেন।