শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে প্রকাশ্যে ফিল্মি স্টাইলে কলকাতা ফেরত এক তরুণীকে অপহরণ করে নিয়ে যায় বখাটে নেশাগ্রস্ত সৈকত পাল : ৩ যুবলীগ নেতা জেলে

একুশে বার্তা প্রতিবেদন : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কলকাতা ফেরত নরসিংদীর এক তরুণীকে প্রকাশ্যে ২৯ সংস্থার সামনে থেকে ফিল্মি স্টাইলে অপহরণ করে যায়। অবশেষে তারা কোর্ট ম্যারেজ করে।
সূত্রে জানা গেছে, বিমান থেকে নামার পর ইমিগ্রেশন না করিয়েই তরুণী লিমাকে অপহরনকারি সৈকত বন্ধুদের সহায়তায় বিমানবন্দর থেকে সরাসরি আদালতে নিয়ে যান। তবে বিমানবন্দর কাস্টমসে কর্মরত আত্মীয়র চাকরি রক্ষায় কোর্ট ম্যারেজের পর লিমাকে তার পরিবারের হাতে তুলে দেয়া হয়।
তিন মাস অতিবাহিত পর নরসিংদীর দুই পরিবারের মধ্যে চলছে চরম বিরোধ।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলাটির প্রথমে তদন্ত করেন নিউমার্কেট থানার এসআই স্বপন কান্তি। পরে এর তদন্তভার এসআই আলমগীর হোসেন মজুমদারকে দেয়া হয়।
নরসিংদীর অন্যতম শীর্ষ ব্যবসায়ী সুধীর সাহার মেয়ে লিমা সাহার সঙ্গে সৈকত পালের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সৈকত নেশাগ্রস্ত, বখাটে হওয়ায় লিমার পরিবার বিষয়টি মেনে নেয়নি। এ কারণে তাকে কলকাতায় আত্মীয়র কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
অনেক দিন পর লিমা দেশে ফেরেন। এটা জানতে পেরে সৈকত বিমানবন্দরে যান। এক আত্মীয় বিমানবন্দর কাস্টমসে কর্মরত থাকার সুবাদে লিমার ইমিগ্রেশন না করিয়েই তাকে নিয়ে সৈকত বিমানবন্দর থেকে চম্পট দেন এবং কোর্ট ম্যারেজ করেন।
এদিকে প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর চাপে ওই কাস্টমস কর্মকর্তার চাকরি হুমকির মধ্যে পড়ে যায়। পরে ওই দিনই লিমাকে বিমানবন্দরে হাজির করা হয়। এরপর ইমিগ্রেশন শেষে বিমানবন্দর থানা পুলিশের মাধ্যমে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তবে এ ঘটনা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করে। দুই পরিবারের এই বিরোধ মীমাংসা করতে গিয়ে অপহরণ মামলায় অাসামি স্থানীয় যুবলীগ নেতা সোহেল ভূঁইয়া ফেঁসে গেছেন।
নরসিংদী শহর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রাজধানীর নিউমার্কেট থানায় দায়ের করা অপহরণ মামলায় এক মাসের বেশি সময় ধরে জেল খাটছেন। তার সঙ্গে জেল খাটছেন যুবলীগ নেতা সোহাগ ও জুয়েল। আর গ্রেফতারের ভয়ে পলাতক রয়েছেন সোহেলের অনুসারী বিল্টন ও অনিক।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নরসিংদী কলেজে পড়ার সময় সুরেশ সরিষার তেল কোম্পানি লিমিটেডের মালিক সুধীর সাহার একমাত্র সন্তান লিমার সঙ্গে সৈকতের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। নরসিংদীর একটি আবাসিক হোটেলে ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন সৈকতের বাবা রামপাল। সৈকতের মা ইতি রানী শহরের পরিচিত মুখ।
এসআই আলমগীর হোসেন মজুমদার জানান, ২৪ মে লিমা বিমানে ঢাকায় ফেরেন। আত্মীয়রা তার জন্য বিমানবন্দরের রিসিপশনে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় সৈকত ও তার সহযোগীরা লিমাকে বিমানবন্দরের ভিআইপি গেট দিয়ে বের করে নেয়।
এরপর সরাসরি কোর্টে গিয়ে তারা বিয়ে করে। ওইদিনই পুলিশের সহযোগিতায় লিমাকে উদ্ধার করা হয়। বিমানবন্দর থানা পুলিশ বাবা সুধীর সাহার জিম্মায় লিমাকে হস্তান্তর করে। এ ঘটনার মীমাংসাকে কেন্দ্র করে জুন মাসে একটি অপহরণ ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিয়ে নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে মারাত্মক বিরোধ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি মীমাংসার জন্য সৈকতের পরিবারের সদস্যরা যুবলীগ নেতা সোহেলের দ্বারস্থ হন। কিন্তু সুধীর সাহা বিষয়টি জানার পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের জানান।
সুধীরের বিপক্ষে যেতে সোহেলকে আওয়ামী লীগ নেতারা নিষেধ করেন। তারা বলেন, সুধীর শুধু একজন বড় ব্যবসায়ী নন। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি স্পন্সর করেন। এরপর সোহেল নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেন।
সুধীর সাহা বলেন, বিরোধ মীমাংসার জন্য রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় সৈকত যেতে বলেন স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী যুবলীগ নেতা সোহেলকে। ১২ জুন চার অনুসারীকে নিয়ে সোহেল নিউমার্কেট এলাকায় যান। সৈকত ও তার সঙ্গীদের সঙ্গে তাদের দেখা ও কথা হয়।
কিন্তু এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির রূপ নেয়। এ ঘটনায় সৈকত বাদী হয়ে নিউমার্কেট থানায় সোহেলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা করেন। এ মামলায় পুলিশ সোহেল ও তার তিন অনুসারীকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।
এখনও তারা জেলহাজতে আছেন। সুধীর সাহা আরও জানান, অপহরণের কোনো উদ্দেশ্য সোহেলের ছিল না। তাদের অন্যায়ভাবে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। জামিনের জন্য উচ্চ আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তিনি জানান, তার মেয়ে লিমা এখন মানসিকভাবে অসুস্থ।
তার কাউন্সেলিং চলছে। নিউমার্কেট থানার এসআই স্বপন কান্তি জানান, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের সঙ্গে এজাহারের তথ্যে গরমিল আছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছুই বলা যাবে না।