একুশে বার্তা প্রতিবেদন : নিবন্ধিত হজযাত্রীদের মধ্যে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার ভুয়া হজযাত্রী রয়েছে বলে জানা গেছে। ধর্মমন্ত্রণালয়ের এক অনুসন্ধানে এ চিত্র ধরা পড়েছে। ধর্মসচিব মো: আনিছুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, ভুয়া পাসপোর্ট অথবা জন্মনিবন্ধন দিয়ে হজ এজেন্সিগুলো সাড়ে ১০ হাজার ভুয়া হজ্ব যাত্রীর নিবন্ধন করেছে। এ ক্ষেত্রে জীবিতকে মৃত, সুস্থকে অসুস্থ দেখানো হয়েছে।এই ভুয়া নিবন্ধনের বিপরীতে আবার প্রতিস্থাপন চাওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে এজেন্সিগুলো অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের সুযোগ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন ধর্ম সচিব।
তিনি বলেন, গত ২৫ এপ্রিল নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর অনুসন্ধান করলে এসব ভুয়া হজযাত্রী ধরা পড়ে। কিন্তু এ বছর তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান তিনি। তবে আগামীতে এ ধরনের তৎপরতা বন্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান ধর্মসচিব।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই সাড়ে ১০ হাজার ভুয়া নিবন্ধীত হজ্ব যাত্রীর নিবন্ধনের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট এজন্টদের সাথে হজ্ব ক্যাম্পে বছরে পর বছর কর্মরত সহকারি হজ্ব অফিসার মো. আব্দুল মালেক,কেরানি সোহেল মো. ফেরদৈৗস, তার শ্যালক দীন মোহাম্মদ, ক্যাশিয়ার খলিলুর রহমান, পরিচালকের গাড়ি চালক পরস্পর জড়িত রয়েছে। এই সিন্ডিকেট সদস্যরা এতোই শক্তিশালী যে এদের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ের একজন সহকারি সচিব অভিযোগ করার পরও তা আমলে নেয়া হয়নি। এদের বিরুদ্ধে কোটি টাকার অবৈধ আয়ের উৎস বেরিয়ে এসেছে। কেরানি সোহেলেন নামে ও স্ত্রীর নামে আশকোনা হজ্ব ক্যাম্প শাখা ইসলামি ব্যাংক এবং শাহজালাল ইসলামি ব্যাংক আশকোনা শাখায় ২ কোটি টাকার এফডিআর রয়েছে- যা অনুসন্ধানে নেমেছে সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থা।এই গোপন খবর প্রকাশ হওয়ার পর্ পরই কেরানি সোহেল স্ট্রোক করে হাসপাতালে। এইচক্রের বিরুদ্ধে পরিচালক হজ্বকে লিগ্যাল নোটিশ করা হয়েছে, কিন্ত তিনি এর কোন জবাব দেননি বলে জানা গেছে। এই চক্র হজ্ব ক্যাম্পকে আবাসিক এলাকা বানিয়ে সেখানে পরিবার নিয়ে বছরে পর বছর বসবাস করছেন। পরিচালক হজ্ব এদের উচ্ছেদে গড়িমসি করছেন। এ বছর হজ্ব কার্যক্রম উদ্ধোধনের দিন এই সিন্ডিকেড সদস্যদের পরিবার ১২ ঘন্টার জন্য হজ্ব ক্যাম্প থেকে সরিয়ে নেয়া হয়। আবার ১২ ঘন্টা পরই পরিবার নিয়ে তারা হজ্ব ক্যাম্পে ফিরে আসে। এ নিয়ে পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন আমলে নেয়া হচ্ছে না।অনিয়ম, দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত প্রমাণ মিলায় সহকারি হজ্ব অফিসার আব্দুল মালেককে দুই দুইবার আশকোনা হজ্ব ক্যাম্প থেকে বদলি করা হলেও আবার রহস্যজনক কারনে আবার ফিরে এসেছেন। তার আয়ের সাথে ব্যয়ের অমিল রয়েছে। তিনি ইতিমধ্যেই আংগুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন। নামে-বেনামে, শ্বশুরের নামে রাজধানি ও বরিশাল শহরে বহু সম্পত্তির মালিক বনে গেছেন। তিনি হজ্ব ক্যাম্পকে আবাসিক িএলাকা বানিয়ে পরিবার নিয়ে বসবাস করলেও সরকারি বেতন সিটে লিখে দিচ্ছেন আমি হজ্ব ক্যাম্পে থাকি না। কিন্ত গোপনীয়তা করে তিনি সরকার থেকে হাউজরেন্টও হাতিয়ে নিচ্ছেন। এই সিন্ডিকেডের অত্যাচারে দুজন কর্মচারি স্বেচ্ছায় অবসরে চলে গেছেন।
এ দিকে হজযাত্রীর গুরুতর অসুস্থতা অথবা মৃত্যুজনিত কারণে আগে ৪ শতাংশ হজযাত্রী প্রতিস্থাপনের সুযোগ দেয়ার পর নতুন করে আরো ৪ শতাংশ হজযাত্রী প্রতিস্থাপনের সুযোগ দিয়েছে ধর্মমন্ত্রণালয়। গতকাল সন্ধ্যায় ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের বাসভবনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেয়া হয়। এ সময় ধর্মসচিব মো: আনিছুর রহমান, যুগ্ম সচিব (হজ) মো: হাফিজ উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বেসরকারি এজেন্সি মালিকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হজযাত্রী প্রতিস্থাপনের সুযোগ দেয়া হয়েছে জানিয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, শুধু গুরুতর অসুস্থতা অথবা মৃত্যুজনিত কারণে হজযাত্রী প্রতিস্থাপন করা যাবে। এ জন্য উপযুক্ত চিকিৎসকের সনদ দাখিল করতে হবে। এজেন্সিকে তাদের নিজস্ব প্যাডে পরিচালক হজ অফিস বরাবর ২৪ জুলাই বিকেল ৫টার মধ্যে আবেদন করতে হবে। এর সাথে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সচিব বলেন, ৪৯৫টি এজেন্সি ছয় হাজার ৪১৯ জন হজযাত্রী প্রতিস্থাপনের আবেদন করেছে। এর মধ্যে একটি এজেন্সিই ৭৭ জনের জন্য আবেদন করেছে। এ ছাড়া ৪৭, ৩৯, ৩৭, ৩৫ জনের জন্যও আবেদন করেছে কয়েকটি এজেন্সি। কিন্তু এত প্রতিস্থাপনের সুযোগ দেয়া সম্ভব নয়। এ জন্য আমরা আগের ৪ শতাংশের সাথে এবার নতুন করে আরো ৪ শতাংশ হজযাত্রী প্রতিস্থাপনের সুযোগ দিয়েছি। বেসরকারি এজেন্সিগুলো যে ছয় হাজার ৪১৯ জনের বিপরীতে প্রতিস্থাপন চেয়েছেন সেসব হজযাত্রীকে গতকাল ধর্মমন্ত্রণালয় থেকে মোবাইল ফোনে মেসেজ দেয়া হয়েছে বলেও জানান সচিব। তিনি বলেন, স্বচ্ছতার জন্য এটা করা হয়েছে। অনেক সময় ভালো ব্যক্তিকেও অসুস্থ বা মারা গেছেন দেখিয়ে হজযাত্রী প্রতিস্থাপন করে অবৈধ লেনদেন করেছে। এবার যাতে সেটা করতে না পারে সে জন্য আগে থেকেই আমরা তাদেরকে জানিয়ে দিয়েছি।
সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী জানান, মোট এক লাখ ২৬ হাজার ৭৯৮ জন হজযাত্রীর মধ্যে গতকাল পর্যন্ত ৬৭ হাজার ৪৫২ জনের ভিসা সম্পন্ন হয়েছে। আর হজ কার্যক্রমে অংশ নেয়া ৫২৮টি এজেন্সির মধ্যে ৫১১টি এজেন্সি গতকাল পর্যন্ত এক লাখ পাঁচ হাজার ৪৪২ জনের বিমান ও সাউদিয়ার টিকিটের জন্য পে-অর্ডার ইস্যু করেছে। বাকি হজযাত্রীদের অনুকূলে বিমানের টিকিট ইস্যু করতে এজেন্সিগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত ৩৭ হাজার ২২২ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন বলেও জানান মন্ত্রী।
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
