স্বর্ন পাচারের অভিযোগে শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মী মাহবুব ও ভাগিনা তৌহিদ ধরা খেল : ডিএসও সেলিনা বহাল

বিশেষ সংবাদদাতা : ১৩ কেজি স্বর্ন পাচারের অভিযোগে সিভিল এভিয়েশনের দুই নিরাপত্তা কর্মী মাহবুুবুর রহমান ওরফে মাহবুব এবং তার আপন ভাগিনা নিরাপত্তা অপারেটর তৌহিদকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। নিরাপত্তা কর্মী মাহবুবের আপন বোন এবং তৌহিদের মা ডেপুটি নিরাপত্তা অফিসার ( ডিএসও) সেলিনা এখনও বহাল। ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৬ এপ্রিল দিবাগত রাতে। ঘটনার দিনরাতে মামা-ভাগিনার একই শিফটে ডিউটি ছিল। ২৬ এপ্রিল দিবাগত রাত অর্থাৎ ২৭ তারিখ রাতে মামা মাহবুব ও ভাগিনা তৌহিদ শাহজালাল বিমানবন্দরে ডিউটি করছিল। বিজি সিংগাপুর ফ্লাইটে জনৈক যাত্রীবেশি স্মাগলার শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরন করেন। সিএএবির নিরাপত্তা কর্মী মাহবুব ও ভাহিগনার জিম্মায় স্বর্ন বুঝিয়ে দিয়ে পাচারকারি সটকে পড়ে। নিরাপত্তা কর্মী মাহবুব ও ভাগিনা তৌহিদ ১৩ কেজি স্বর্ন আগলে রেখে উত্তরার আস্তানায় পৌছে দেয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব উত্তরায় অভিযান চালিয়ে ১৩ কেজি স্বর্নসহ স্মাগলারকে পাকড়াও করে। স্মাগলারের স্বীকারোক্তি মোতাবেক ১৩ কেজি স্বর্ন পাচার সহযোগি বাহক সিএএবির নিরাপত্তা কর্মী মাহবুব ও ভাগিনা তৌহিদকে র‌্যাব গ্রেফতার করে। র‌্যাবের জিম্মায় সিএএবির নিরাপত্তা কর্মী মাহবুব ও ভাগিনা তৌহিদকে জিঙ্ঘাসাবাদ শেষে গত বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা কর্মী মাহবুব ও ভাগিনা তৌহিদকে র‌্যাব বিমানবন্দর থানা পুলিশে সোপর্দ করে। এ ব্যাপারে বিমানবন্দর থানায় মামলা হয়েছে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সিএএবির নিরাপত্তা কর্মী মাহবুব ও ভাগিনা তৌহিদ বিমানবন্দর থানা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে জানতে শাহজালাল বিমানবন্দরের উপ-পরিচালক বেনী মাধব বিশ্বাসের সেল ফোনে কল করলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই, খোজখবর নিয়ে জানাতে পারবো।
উপ-পরিচালক (প্রশাসন) নূরুল ইসলাম জানান, দুই নিরাপত্তা কর্মী স্বর্নসহ গ্রেফতারের বিষয়টি এখনও প্রশাসনে রিপোর্ট আসেনি, রিপোর্ট আসলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে বিমানবন্দরে এক মহিলা আনসার সদস্যের সাথে আপত্তিজনক ছকি ফেইসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ সিএএবির নিরাপত্তারক্ষী মাহবুবকে চাকরিচ্যুত করে। প্রায় দুই বছর চাকরি হারিয়ে তদবির করে নিরাপত্তাকর্মী মাহবুব চাকরি ফিরে পায়। তার আপন বোন ডেপুটি নিরাপত্তা অফিসার (ডিএসও) সেলিনা শাহজালাল বিমানবন্দরে প্রায় একযুগ ধরে কর্মরত। মা-ছেলে-ভাই পারিবারিক সিন্ডিকেটে শাহজালালে অনৈতিক কাজে জড়িত বলে ইতিপূর্বে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। কিন্ত এরপরও ডিএসও সেলিনা কোন খুটির জোরে শাহজালালে বহাল তা কেউ বলতে পারে না। ডিএসও সেলিনার স্বামি কালাম এক সময় সিএএবির চেয়ারম্যানের দপ্তরে পিয়ন হিসেবে কাজ করতো।