নিউজ ডেক্স : ঢাকা বিভাগের ১৩ জেলার ৯৬ উপজেলা যুক্ত হলো পুলিশের তথ্য বাতায়নে। এর ফলে এসব জেলার বাসিন্দা পাসপোর্টসহ অন্যান্য পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সেবা পাবেন ঘরে বসেই। পুলিশের কাজে স্বচ্ছতা আনতে ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক হাবিবুর রহমান। আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে পুরোদমে কার্যকর হবে এই সেবা। আপাতত ঢাকা বিভাগের পাশাপাশি মহানগর পুলিশেও এই ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর সারাদেশে এটি চালু করতে উদ্যোগ নিতে পারে পুলিশ সদর দপ্তর। পুলিশ সদর দপ্তর বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, নাগরিকদের জন্য নানা সেবাধর্মী কাজ করে থাকে পুলিশ। এর মধ্যে অপরাধমূলক মামলা-মোকদ্দমার নিষ্পত্তি বা বিচারবিষয়ক, পাসপোর্ট সংক্রান্ত তদন্ত, দেশি-বিদেশিদের তথ্য সংক্রান্ত প্রতিবেদন (পুলিশ ক্লিয়ারেন্স) প্রদান, চাকরিতে নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য প্রদান উল্লেখযোগ্য। তবে অভিযোগ রয়েছে যে ক্ষেত্রবিশেষে পুলিশ মামলা গ্রহণ থেকে শুরু করে আলোচ্য সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে গড়িমসিসহ এমন সব আচরণ করে যাতে নাগরিকদের মনে পুলিশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা জন্মায়। এই অবস্থার নিরসন এবং জনগণকে হয়রানির হাত থেকে রক্ষা করতে চায় পুলিশ বিভাগ। এ প্রসঙ্গে ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সকল বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তথ্য বাতায়ন উন্মুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে নাগরিক সেবা দ্রুত ও স্বচ্ছ হবে, পাশাপাশি পুলিশের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। এই কর্মকর্তা জানান, অপরাধমূলক মামলা সংক্রান্ত কাজে নাগরিকরা থানায় আসেন মাসে কমবেশি ২০০ বার। কিন্তু পাসপোর্ট সেবার জন্য ঢাকা রেঞ্জের আওতায় কমবেশি গড়ে ৪০ হাজার নাগরিককে সেবা দিতে হয়। এছাড়া দেশি-বিদেশি নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য যাচাই-বাছাই প্রতিবেদন দিতে হয় ২০ হাজারের মতো। এক্ষেত্রে সেবা সহজলভ্য করতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় একটি সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছে। এতে পুরো ঢাকা বিভাগকে যুক্ত করে পুলিশের সব ধরনের কার্যক্রমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
জানা গেছে, জরুরি পাসপোর্ট প্রদান সংক্রান্ত তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে তিন দিন সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। একজন নাগরিক পাসপোর্ট পেতে আবেদন করার পর তিনি জানেন না এই পাসপোর্ট কোথায় কী অবস্থায় আছে বা তদন্তের অবস্থা কি! তথ্য বাতায়নের মাধ্যমে আবেদনকারী জানতে পারবেন কখন কোন্ কর্মকর্তার কাছে তার পাসপোর্টটি যাচ্ছে এবং প্রতিবেদন ইতিবাচক না নেতিবাচক। এ বিষয়ে গ্রাহকের মোবাইলে মেসেজ যাবে। পুলিশের গোয়েন্দা ইউনিটের যারা তদন্ত করবেন তারা পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রাহকের মোবাইলে তথ্য চলে যাবে। এরপর গ্রাহক জানতে পারবেন কোন্ কর্মকর্তা তার পাসপোর্ট সংক্রান্ত বিষয়টি তদন্ত করছেন। তিন দিনের মধ্যে গ্রাহক জেনে যাবেন পাসপোর্ট সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য। এর বেশি সময় কোনো কর্মকর্তা পাসপোর্ট আটকে রাখলে সেই তথ্যও তথ্য বাতায়নে জানতে পারবেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সেক্ষেত্রে সেই কর্মকর্তার গাফিলতি প্রমাণ হলে রয়েছে বিভাগীয় শাস্তির ব্যবস্থা। তবে সাধারণ পাসপোর্টের ক্ষেত্রে তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে জমা দেওয়ার জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ দিন।
একইভাবে দেশি-বিদেশি যেসব নাগরিক পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য আবেদন করবেন তারাও বাড়িতে বসে তাদের প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে পারবেন প্রতিটি ধাপে ধাপে। নাগরিকরা পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য আবেদন করে নানাভাবে হয়রানির শিকার হন। এখন এই ক্লিয়ারেন্স সেবাও তথ্য বাতায়নে যুক্ত হওয়ার হয়রানি কমবে। আবেদনপ্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তির সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আবেদনপ্রাপ্তি, তদন্তের অবস্থা, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য বাড়ি বসে জানতে পারবেন আবেদনকারীরা। প্রতিবেদন ইতিবাচক না নেতিবাচক, কারণসহ জানা যাবে। ইত্তেফাক
