বিশেষ সংবাদদাতা : আনসার বাহিনীর উত্তর জোনে প্রায় ৪বছর ধরে কর্মরত এলডি/ কেরানি সানোয়ারের বদলি-পোস্টিং বাণিজ্যের নামে আনসার সদস্য থেকে শুরু করে পিসি/এপিসিরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিয়োগ ওঠেছে। সৎ কর্মকর্তা বলে ব্যাপক খ্যাতি অর্জনকারি উত্তর জোন অধিনায়ক এ ব্যাপারে নীরব ভুমিকা পালন করে অনেকটা কেরানি সানোয়ারের পক্ষেই সাফাই গাইছেন। কেরানি সানোয়ার উত্তর জোন অফিসে দীর্ঘদিন চাকরি করার সুবাধে এ জোনের অধীনে বিভিন্ন ঘাটের পিসি, এপিসি, সাধারন আনসার সদস্যদের বদলি, পোস্টিং বাণিজ্য করে আজ কোটিপতি হয়েছেন বলে দুদক জানতে পেরেছে। দুদক তার দুর্নীতি তদন্তে মাঠে নেমেছে। তার আয়ের সাথে মিল নেই- এমন সম্পদ উপার্জন করার খবর পেয়ে দুদক তদন্ত করছে। দুদক তার এলাকায় অভিযানে নেমে কোটি টাকা খরচ করে তার এলাকায় আলিশান বাড়ি নির্মাণের তথ্য পেয়েছে। সচতুর সানোয়ার দুদককে ম্যানেজ করার পাতারা করছে বলে আনসার বাহিনীর সদস্যরা জানান।
এ ব্যাপারে কেরানি সানোয়ার জানান, আমার কোন আলিশান বাড়ি নেই, দুদক তদন্ত করে আমার আয়ের সাথে গড়মিল এমন কোন সম্পদ খুজে পায়নি।
কেরানি সানোয়ারের বদলি- পোস্টিং বাণিজ্য প্রসংগে উত্তর জোন অধিনায়ক জানান, তার তো বদলি-পোস্ট্ংিয়ের কোন ক্ষমতা নেই। কারো থেকে বদলি-পোস্টিং সংক্রান্ত সুবিধা নিয়ে থাকলে জানান আমি ব্যবস্থা নেব।
বদলি-পোস্টিং বাণিজ্যের স্টাইল : আনসার উত্তর জোনে দীর্ঘ ৪ বছর ধরে কর্মরত এলডি সানোয়ার উক্ত জোনের অধিনস্থ বিভিন্ন আনসার ক্যাম্পে পিসি ,এপিসি, আনসার আনসার সদস্যদের বদলি- পোস্টিং তালিকা তৈরি করে তার স্যারের টেবিলে উপস্থাপন করে থাকে। যে সব পিসি,এপিসি. আনসাররা এলডি সানোয়ারের সাথে যোগাযোগ করে আন্ডার হ্যান্ডডিলিং করে তাদেরকে প্রাইজ পোস্ংিয়ের জন্য তার স্যারের কাছে সুপারিশ করে থাকে। আর যারা তার চাহিদা মতো ঘুষ দেয় না বা রাজি হয় না তাদেরকে খারাপ পোস্টিং-এর জন্য সুপারিশ করে থাকে। তার স্যার অনেক সময় কথা না রাখলে তার স্যারের উর্ধতন স্যারকে দিয়ে তার স্যারকে ফোন করিয়ে ম্যানেজ করে বদলি-পোস্টিং করিয়ে আর্থিক সুবিধা হাতিয়ে নিয়ে থাকেন।
উত্তরার রাজউক মাকের্টে কর্মরত এপিসি আশরাফুল ইসলাম, আনসার সদস্য তাহের,দুলু,জাহিদ- এদের কাছে ভাল বা প্রাইজ পোস্টিংয়ের জন্য কেরানি সানোয়ার অর্থিক সুবিধা দাবি করে বলে অভিযোগ। কিন্ত কেরানি সানোয়ারের দাবিকৃত টাকা না দেয়ায় তাদেরকে তার স্যারকে বলে-কয়ে উত্তরা বাংলাদেশ কুয়েত হ্সাপাতালে বদলি করেছে।
পিসি ইসমাইলের কাছে আর্থিক সুবিধা দাবি করে কেরানি সানোয়ার। কিন্ত দাবিকৃত আর্থিক সুবিধা না দেয়ায় তাকে হোটেল গুলশানে বদলি করিয়েছে।
এ ছাড়াও কেরানি সানোয়ারের অনুরোধে বা তার স্যারকে ম্যানেজ করে একজন বিতর্কিত পিসি যিনি ঢাকা মেডিকেলে অনৈতিক কাজের জন্য ব্লাকলিস্টে ছিলেন- সেই আতাউরকে ঢাকা কাস্টমস হাউজ ঘাটে বদলি করা হয়েছে। ওই ঘাটে পিসির তত্বাবধানে আমিনুল নামের একজন আনসার সদস্য রেলওয়েতে এবং কাস্টমস হাউজের ঘাটে বেশ কিছু দিন ডবল ডিউটি করার পর থানা কর্মকর্তা জানতে পেরে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।ইতিপূর্বে হাসিনা নামে এক মহিলা আনসার সদস্যকে বদলির একমাস পর তার পুরনো কর্মস্থল শাহজালাল বিমানবন্দরে ডিউটি করানো হয়। পরে পত্রপত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশের পর তার নতুন কর্মস্থল আশিয়ান সিটি মেডিকেল কলেজে ফিরিয়ে নেয়া হয়।
৬ মাসের পোস্টিংয়ে ৩ বছর : উত্তর জোন বিমানবন্দর জোনসহ রাজধানীর বিভিন্ন জোনে ৬ মাসের পোস্টিংয়ে পিসি, এপিসি, আনসার সদস্যরা ৩ বছর ধরে কর্মরত। বিভিন্ন আনসার ক্যাম্পে গোপন তদন্ত করেলই তা বের হয়ে আসবে। কেরানি সানোয়ার আগে যখন বিমানবন্দর জোন ভাগ হয়নি তখন নতুন এ জোনসহ পুরো উত্তর জোনেরই বদলি-পোস্টিং তার স্যারদের বলে-কয়ে নিয়ন্ত্র্রণ করতো। এখন শুধু উত্তর জোনের পিসি.এপিসি, আনসার সদস্যদের বদলি-পোস্টিং নিয়ন্ত্রণ করছে স্যারদের ম্যানেজ করে ।আর আংগুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে।
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
