বিশেষ সংবাদদাতা : ছিল না সরকারি আদেশ, হাউজ কমিশনারের অনুমোদন, হাউজ কমিশনার চট্রগ্রামে অবস্থান করছেন, সরকারি অফিস টাইম ৯-৫ টা, অতিক্রান্ত হয়েছে, সব কর্মকর্তা-কর্মচারি ঢাকা কাস্টমস হাউজ ত্যাগ করেছেন। কিন্ত এয়ার ফ্রেইট আমদানি শাখার ১ নং ডেলিভারি গেটে চাদ রাতের আনন্দ চলছে, টনকে টন পণ্য ডেলিভারি চলছে। এর মধ্যে সিএন্ডএফ এজেন্ট থিনসিয়াই সর্বেসর্বা। সিএন্ডএফ এজেন্ট থিনসিয়া সব সময়ই পণ্য ডেলিভারিতে এগিয়ে থাকে। কথিত আছে ১০ টনের নীচে সিএন্ডএফ এজেন্ট থিনসিয়া পণ্য ডেলিভারি নেয় না। পণ্য ডেলিভারি দিতে দিতে রাত ১১ টা বেজে গেল। পণ্যের স্তুপ এয়ারফ্রেইটের লম্বা মাঠ ছাপিয়ে কার্গো কার পার্কিংয়ের মাঠ অবধি গড়ালো। পরিবহন সংকট হওয়ায় রাতভর পন্য গন্তব্যে আনা-নেয়া চলল।
ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকা কাস্টমস হাউজের এয়ারফ্রেইট আমদানি শাখার ১নং ডেলিভারি গেটে। ঘটনার তারিখ:২৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার। ৯-৫টা সরকারি অফিস টাইম ছিল। যথারীতি সরকারি অফিস সময় শেষে হাউজের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা চলে গেছেন। কিন্ত এয়ারফ্রেইট আমদানি শাখার ১ নং ডেলিভারি গেটে আমদানিকৃত পণ্য খালসের মহড়া চলছে। এ যেন কে কার চেয়ে বেশি পণ্য ডেলিভারি বা খালাস করে নিয়ে যেতে পারে- তার মহড়া। হাতেগোনা ২০জন কমার্শিয়াল ব্যবসার অন্তরালে মিথ্যা ঘোষণা, ওজনে কারচুপি, শতভাগ আমদানি পরিক্ষা-নীরিক্ষা না করা, কাস্টমস কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে গোপন কন্ট্রাক্ট, গেট কন্ট্রাক্টে প্রতিদিনই যেখানে প্রায় ১০ কোটি টাকার রাজস্ব ফাকি দেয়া হয়ে থাকে সেখানে একরাতের মহড়ায় শতকোটি টাকার রাজস্ব ফাকি দেয়া হলো বলে অনেকে মনে করেন। যে সব কমার্শিয়াল ব্যবসায়ি ওই রাতে পণ্য খালাসের মহড়ায় নামে তারা হলেন:সিএন্ডএফ এজেন্ট সিনথিয়ার মালিক শাজাহান, রন/রনির শামীম ওরফে বরিশালের শামীম. ভাগিনা ওরফে ভাগিনা জীবন, জামাই জীবন, উজ্জল, আনিস, জামালপুরের শাহিন, সুমন ওরফে কাইল্যা সুমন ( যার পণ্য অনেক সময় সিনথিয়া ডেলিভারি নেয়), রাসেল, বাদশা বুলু, মনিরসহ আরো অনেকে। ঘটনার রাতে ৮ টা অবধি দেখা গেল কমার্শিয়াল ব্যবসায়িরা বান্ডিল বান্ডিল টাকার প্যাকেট নিয়ে বিভিন্ন কর্মকর্তার রুমে ঢুকছে আবার কিছুক্ষণ পর বের হচ্ছে। এভাবোই নাকি মধ্যরাত অবধি চলতে থাকে।
আনিস নামের এক ব্যবসায়ি জানান, আমার সিরিয়াল আসে রাত ৯টার সময়। তিনি বলেন , দুই নম্বরের জ্বালায় আমি ব্যবসায় টিকতে পারছি না।
এ ব্যাপারে এয়ারফ্রেইটের উপ-কমিশনার (ডিসি) মিনহাজুল ইসলাম পাহলোয়ানের সাথে তার সেল ফোনে কল করলে তিনি জানান, যতক্ষণ পণ্য আছে ততক্ষণ ডেলিভারি চলবে। তিনি আরো জানান, ২৪ ঘন্টা ডেলিভারি চলবে- এটা আপনি জানেন না? এতে কোন অনুমোদন আছে কিনা জানতে চাইলে ডিসি পাহলোয়ান জানান, পারমিশন তো আমিই দিয়েিেছ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাঝেমধ্যেই এয়ারফ্রেইট আমদানি শাখার ১নং ডেলিভারি গেটে পণ্য খালাসের জন্য বিকাল ৫টার পর কিছু বাড়তি সময় দেয়া হয়। অজুহাত থাকে সরকারি বন্ধ বা সার্ভার নষ্ট। কিন্ত ২৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার পর মধ্যরাত অবধি কেন ১নং ডেলিভারি গেটে ২০ কমার্শিয়াল ব্যবসায়ির পন্য ডেলিভারি দেয়া হলো তা রহস্যজনক। এর অন্তরালে শতকোটি টাকার ট্যাক্স ফাকি দিয়ে পণ্য ভিন্নপথে চলে গেল বলে গোয়েন্দা সংস্থা জানতে পেরেছে এবং তা খতিয়ে দেখছে।
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
