বিশেষ সংবাদদাতা : বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন অথরীটিতে (সিএএবি) উচ্চ আদালতের আদেশ অমান্য করে জনবল নিয়োগে নিয়োগ বিঙ্ঘপ্তি প্রকাশ করেছে। গত ১৬ অক্টোবর সিএএবির ওয়েবসাইটে এই বিঙ্ঘপ্তি প্রকাশ করা হয়। এই নিয়োগ বিঙ্ঘপ্তিতে স্বাক্ষর করেন পরিচালকের দায়িত্বে থাকা আইন কর্মকর্তা একেএম নূরুন্নবী কবির। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর এবং আদালতের আদেশে আরো ৮ জন নিাপত্তা সুপারভাইজার বা নিরাপত্তা অধিক্ষক আপত্তি তুললে সিএএবির ওয়েবসাইট থেকে ওই নিয়োগ বিঙ্ঘপ্তি সরিয়ে নেয়া হয়। এ যেন আইন কর্মকর্তার বেআইনি কাজ। এখানে মূল কলকাঠি নাড়ছেন সদস্য (প্রশাসন)। পরিচালকের (প্রশাসনের) সাথে তার তার দ্বিমত থাকার কারনে তিনি বিদেশে অবস্থান করায় নিয়োগ কমিটির সভাপতি হিসেবে সদস্য (প্রশাসন)- এর অনুমতি সাপেক্ষে এই নিয়োগ বিঙ্ঘপ্তি প্রকাশ করা হয় বলে সিএএবিতে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। গত মে মাসের নিয়োগের প্রক্রিয়ার সাথে ৬ জনের ফাইল পরিচালক প্রশাসনের দপ্তর থেকে পুটআপ দেয়া হলে তা সদস্য (প্রশাসন) আটকে দেন বলে জানা গেছে। আর এ নিয়ে দুই কর্মকর্তার সাথে দ্বন্ধ চরমে। এ জন্য এই দুই কর্মকর্তাকে সিএএবি থেকে বদলির পক্ষকালেরও সময় বেশি সময় অতিবাহিত হলেও কেউ-ই সিএএবি ছেড়ে চলে যাননি, বহাল থাকার তদবির করছেন, স্বঘোষিত কর্মচারি নেতা ফরিদের নেতৃত্বে চেয়ারম্যানকে ফুল দিয়ে বিমানবন্দরে বরন করে সদস্য ( প্রশাসন)কে রাখার জন্য অনুরোধ করেছেন বলে জানা গেছে।
সিএএবি সূত্রে জানা গেছে, উচ্চ আদালতের আদেশে সিএএবিতে দীর্ঘদিন অস্থায়ীভাবে চাকরি করার পর প্রায় দেড় হাজার জনবল স্থায়ী করার জন্য আদালত আদেশ প্রদান করেন। সেই অনুসারে জনবল স্থায়ীকরণ করা হয়। মাত্র ৮ জন নিরাপত্তা অধিক্ষককের চাকরি এখনও স্থায়ীকরণ করা হয়নি। এই ৮ জনের চাকরি স্থায়ীকরণ না করেই গত ১৬ অক্টোবর সিএএবির ওয়েবসাইটে ওই পদসহ অন্যান্য ৯টি পদে ৩৫ জনকে নিয়োগের জন্য নিয়োগ বিঙ্ঘপ্তি প্রকাশ করা হয়। পরে আপত্তির মুখে তা প্রত্যাহার করা হয়।
সূত্র জানায়, উচ্চ আদালতের আদেশ অমান্য করে এবং সিএএবির চেয়ারম্যানের অনুমতির পরও দীর্ঘ প্রায় ১ বছর ঝুলিয়ে রাখার পর গোপনে জনবল নিয়োগের পায়তারা, কাংক্ষিত লক্ষ্যে না পৌছায় ওই ৮ জন নিরাপত্তা অধিকক্ষের মধ্যে অদ্য ২২ অক্টোবর ৪ জন নিরাপত্তা অধিক্ষককে ডেকেছে সিএএবির প্রশাসন।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সিএএবির একজন উপ-পরিচালক জানান, নিয়োগ বিঙ্ঘপ্তি প্রকাশের পর তা বাতিল করা হয়েছে।
এর আগেও আদালতের আদেশ অমাণ্য করে নিয়োগ বিঙ্ঘপ্তি গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। আর এর প্রতিবাদে সিডি-২-এ কর্মরত হাছিনা বেগম নামের একজন কর্মচারি এর বিরুদ্ধে আদালতে রিট মামলা দায়ের করেন। স্ব স্ব পদে চাকরি স্থায়ীকরণে আদালত আদেশ দিলেও বিভাগ, পদবী এমনকি গ্রেড পরিবর্তন করে চাকরি স্থায়ীকরণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে চৌকিদারকে ১৯ নম্বর গ্রেড পরিবর্তন করে করা হয়েছে স্টেনোগ্রাফার। তাদের মধ্যে একজন পরিচালক সিএটিসির দপ্তরে কর্মরত। এ নিয়ে কর্মচারিদের আপত্তি এবং আদালতে রিট মামলা করেও কাংক্ষিত ফল পায়নি কর্মচারিরা।
গত মে মাসের নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও কেলেংকারির শেষ নেই। বিশেষ মহিলা কোটা ও পংগু কোটায় ২জন পুরুƒষ ও ২ জন মহিলা হিসাবরক্ষক পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনমাসের মধ্যে তাদের একজনের চাকরি প্রশিক্ষণ দিয়ে স্থায়ীকরণ করা হয়েছে, হিসাবরক্ষক ফারজানাকে অফিসারদের মতো কাওলার আবাসিক এলাকায় ডরমেটরিতে আবাসিক স্থান বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। নিয়োগ কেলেংকারির নায়ক পরিচালক প্রশাসনের পিএ হানিফকে বলিরপাঠা বানিয়ে চট্রগ্রামে বদলি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে এখনও বিভাগীয় মামলা করা হয়নি।
Share this:
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Tumblr (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on Pocket (Opens in new window)
- Click to share on Reddit (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
